ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্লাস্টার বোমার ভয়াবহতা
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ক্লাস্টার বোমার সাব-মিউনিশন বা ছোট বিস্ফোরক আকাশ থেকে পড়ে আসার সম্ভাব্য দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, ইরান তাদের দিকে ছোড়া কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেড ব্যবহার করেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত বিতর্কিত অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত।
ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে ছোট বিস্ফোরক
টাইসস অব ইসরায়েলের লাইভ প্রতিবেদন অনুসারে, ভিডিও ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে আকাশ থেকে একাধিক ছোট বিস্ফোরক মাটির দিকে পড়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এগুলো ক্লাস্টার বোমার সাব-মিউনিশন, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড মাটির দিকে নামার সময় মাঝ আকাশে খুলে যায়। এরপর এর ভেতর থেকে প্রায় ২০টি ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে পড়ে, প্রতিটিতে প্রায় ২.৫ কেজি বিস্ফোরক থাকে এবং সেগুলো প্রায় ৮ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ক্লাস্টার বোমার বিপজ্জনক বৈশিষ্ট্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাস্টার বোমা অত্যন্ত বিপজ্জনক অস্ত্র, কারণ এর অনেক সাব-মিউনিশন বিস্ফোরিত না হয়ে মাটিতে পড়ে থাকতে পারে, যা পরে সাধারণ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশ এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করলেও এখনো সব দেশ সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি, ফলে এর ব্যবহার চলমান সংঘাতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ইরান-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় ইতোমধ্যে অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে, এবং এই ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার সম্ভাব্য মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
