মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত খামেনি
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। গত শনিবার থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। এই হামলার শিকার হয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। পালটা জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, কিন্তু এই সংঘাতের মধ্যে একটি অদ্ভুত বিষয় উঠে এসেছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রযুক্তিকেই কাজে লাগিয়ে হামলা চালিয়েছে।
সস্তা ড্রোন ও নকল ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার
সামরিক অভিযানে দুই দেশ সস্তা মানের ড্রোন এবং নকল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন বিশেষজ্ঞরা ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ইউনিটের প্রযুক্তি অধ্যয়ন করে লুকাস নামের একটি কম খরচের ড্রোন তৈরি করেছেন। একটি লুকাস ড্রোন মাত্র ৩৫ হাজার ডলারে ক্রয় করা যায়, যা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়, যদিও এর সাফল্যের হার বেশি।
এদিকে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কিছু নকল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই কৌশলের ফলে ইরানের সামরিক বাহিনী বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে এবং যৌথ বাহিনী যুদ্ধবিমান দিয়ে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। অভিযানে এফ-৩৫ ও এফ-২২ স্টেলথ ফাইটার, বি-২ স্টেলথ বম্বার, এবং এ-১০ অ্যাটাক জেট ব্যবহার করা হয়েছে।
শনিবার হামলার পেছনের কারণ
খামেনিকে হত্যার জন্য শনিবারকেই বেছে নেওয়ার পেছনে একটি কৌশলগত কারণ রয়েছে। গত চার দশক ধরে খামেনিকে হত্যার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ তিনি নিরাপত্তার জন্য ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন করতেন। তবে কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার অবস্থান শনাক্ত করতে জোর প্রচেষ্টা চালায়। তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরাগুলোর ওপর নজরদারি চালানো হয়, বিশেষ করে পাস্তুর স্ট্রিটের একটি ক্যামেরা, যা খামেনির দপ্তরের নিকটবর্তী ছিল।
খামেনির ধারণা ছিল, শনিবার ইহুদিদের পবিত্র দিন ‘সাব্বাত’ হওয়ায় ইসরায়েল কোনো হামলা চালাবে না। এই দিনে ইহুদিরা কাজ বন্ধ রাখেন এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেন। কিন্তু এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়, এবং সকাল ৯টায় একটি বৈঠকের সময় হামলা চালানো হয়।
ইরানের প্রযুক্তিগত নির্ভরতা
মজার বিষয় হলো, ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর তৈরি অস্ত্র দিয়েই তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দান থেকে রাশিয়া জব্দ করা পশ্চিমা অস্ত্র, যেমন জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল বা স্টিঙ্গার এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম, ইরানে পাঠানো হয়েছে। ইরানের প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরা এসব অস্ত্রের নকল করে নিজেদের অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করেছে।
এছাড়া, চীনের সহায়তায় ইরান পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যন্ত্রাংশ ও নকশা পেয়েছে। এর ফলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে জার্মান বা মার্কিন নকশা থেকে কপি করা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে, যেখানে প্রযুক্তির লড়াইও একটি বড় ভূমিকা পালন করছে।
