ইরানে যৌথ হামলার পর চীনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান ও নাগরিক নিরাপত্তা নির্দেশনা
ইরানে হামলার পর চীনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান

ইরানে যৌথ হামলার পর চীনের জরুরি যুদ্ধবিরতি আহ্বান

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক হামলার পর চীন সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে ইরানের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা অবশ্যই পূর্ণ সম্মান পেতে হবে।

চীনা নাগরিকদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা

চীনা কর্তৃপক্ষ ইসরাইলে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। চীনা দূতাবাসের পরামর্শ অনুযায়ী, ইসরাইলের চীনা নাগরিকদের নিরাপদ এলাকায় সরে যেতে হবে অথবা মিসরের তাবা সীমান্ত দিয়ে দেশ ত্যাগ করার ব্যবস্থা করতে হবে। একইভাবে ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।

ইরান থেকে নিরাপদে প্রস্থানের জন্য চারটি স্থলপথের সুপারিশ করা হয়েছে:

  1. আজারবাইজান হয়ে প্রস্থান
  2. আর্মেনিয়া হয়ে প্রস্থান
  3. তুরস্ক হয়ে প্রস্থান
  4. ইরাক হয়ে প্রস্থান

উভয় দেশেই চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বিমান হামলার কারণে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

শিনহুয়ার তীব্র সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া এই হামলাকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আগ্রাসন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে শক্তির রাজনীতি ও আধিপত্যবাদের একটি উদাহরণ। শিনহুয়া আরও অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেছেন, "সকল পক্ষকে উত্তেজনা আর না বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথেই এগোতে হবে।"

বিমান চলাচলে প্রভাব ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে হংকংভিত্তিক বিমানসংস্থা ক্যাথে গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কিছু ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বিশেষ করে দুবাই ও রিয়াদগামী যাত্রীবাহী ফ্লাইট এবং আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে চলাচলকারী কার্গো ফ্লাইটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে যে নিরাপত্তার কারণে সংশ্লিষ্ট আকাশপথ এড়িয়ে বিকল্প পথে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

এই সিদ্ধান্তটি আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বিমান চলাচলের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে। ক্যাথে গ্রুপের পদক্ষেপটি অন্যান্য বিমানসংস্থাকেও তাদের ফ্লাইট পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে উৎসাহিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

চীনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। ইরান-ইসরাইল সংঘাতের এই ঘটনাপ্রবাহে চীনের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।