ইরানে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত
ইরানজুড়ে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত সামরিক হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এ হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় অনেক কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারও প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানি বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ ও ধ্বংসাত্মক অভিযানের ঘোষণা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে ইরানি বাহিনী এখন পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। তেহরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা প্রতিশোধ নিতে ছয় দফায় হামলা শুরু করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা
ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের তেল আবিবে অবস্থিত তেল নব বিমান ঘাঁটি এবং দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চলেও ইরানি আক্রমণ হয়েছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান এখনো জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাঁটিতে হামলার তথ্য স্বীকার করেছে, কিন্তু কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা না চালাতে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, "ইরান মাত্রই জানিয়েছে যে তারা আজ প্রচণ্ড আঘাত হানবে, যা তারা আগে কখনো করেনি। তাদের সেটা না করাই ভালো। তারপরেও তারা যদি সেটা করে তাহলে আমরা তাদের এমন এক শক্তি দিয়ে আঘাত করবো যা আগে কখনো দেখা যায়নি!"
এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ইরানি বাহিনীর ধ্বংসাত্মক অভিযানের ঘোষণা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের কঠোর সতর্কবার্তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।
