ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি কার্যালয়ে হামলায় নিহত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল শনিবার ভোরে তার কার্যালয়ে কাজ করার সময় হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের এক বিবৃতি থেকে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি দায়ী করেছে ইরানের কর্তৃপক্ষ।
হামলার বিস্তারিত ও প্রাসাদ ধ্বংস
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, যা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানে অবস্থিত লিডারশিপ হাউস কমপাউন্ডের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা খামেনির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এই হামলার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিম দাবি করেছে যে, খামেনির লুকিয়ে থাকার খবরগুলো ছিল শত্রুপক্ষের মানসিক যুদ্ধের অংশ, এবং তার কার্যালয়ে মৃত্যু এটাই প্রমাণ করে।
ট্রাম্পের দাবি ও হুমকি
বাংলাদেশ সময় রোববার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পর খামেনি নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি নিহত। তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ইসরাইলের সঙ্গে মিলে আমরা এমন অভিযান চালিয়েছি যে, খামেনি বা তার সাথে মারা যাওয়া অন্য নেতাদের কিছুই করার ছিল না।’
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনা ইরানের জনগণের জন্য দেশ ফিরে পাওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা খবর পাচ্ছি যে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্য আর যুদ্ধ করতে চায় না এবং তারা আমাদের কাছে ক্ষমা চাইছে। এখনই সুযোগ, দেরি করলে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই পাবে না তারা।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশপ্রেমিকদের সাথে একাত্ম হবে এবং দেশকে পুনরুদ্ধারে কাজ করবে, তবে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন হামলা চলতে থাকবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই হামলার ফলে ইরান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশটির অবকাঠামো বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। ইরানের কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, খামেনির মৃত্যু একটি পরিকল্পিত আক্রমণের ফল, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে, এবং বিশ্বব্যাপী এর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রভাব পড়বে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনগুলোতে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং বৈদেশিক নীতি কী দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর রাখা হচ্ছে।
