ইরানে নেতৃত্ব শূন্যতা: আইআরজিসির জরুরি নেতা নিয়োগের চাপ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে তীব্র নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে দ্রুততার সাথে পরবর্তী নেতা নিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইআরজিসির অবশিষ্ট কমান্ড কাঠামো আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, বিশেষ করে রোববার ভোরের আগেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে চাইছিল।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাহত ও নেতৃত্ব পরিষদ গঠন
চলমান বিমান হামলার কারণে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবিধানিক সংস্থা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসের অধিবেশন আহ্বান করা সম্ভব নয় বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে আইনগতভাবে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে নেতা নিয়োগের জন্য আইআরজিসি চাপ দিচ্ছে। তবে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার প্রয়ানের পর বিশেষ এই পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য তিন সদস্যের সমন্বয়ে একটি নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা কাঠামোতে বিশৃঙ্খলা ও সামরিক সংকট
খামেনি নিহত হওয়ার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর ভেতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্রগুলো দাবি করেছে যে কমান্ড চেইনের কিছু অংশ ব্যাহত হয়েছে এবং আদেশ প্রেরণ ও অপারেশনাল সমন্বয়ে গুরুতর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই অবস্থার ফলে আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনে মাঠপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এছাড়াও কিছু সামরিক কমান্ডার ও নিম্নপদস্থ সদস্য তাদের ঘাঁটি ও সামরিক কেন্দ্রে যোগ দিতে বিরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য অব্যাহত হামলা এবং কমান্ড ও সহায়তা স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই তারা এমন সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে।
আইআরজিসির অভ্যন্তরীণ আশঙ্কা ও সামাজিক অস্থিরতা
আইআরজিসি আরও আশঙ্কা করছে যে রোববার সকালে দিনের আলো ফুটলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসতে পারে, যা নতুন করে ব্যাপক সমাবেশ ও বিক্ষোভের ঢেউ সৃষ্টি করতে পারে। এই সম্ভাব্য সামাজিক অস্থিরতা নেতৃত্ব সংকটকে আরও গভীর করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর এই ঘটনাপ্রবাহ ইরান-ইসরাইল সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। নেতৃত্ব শূন্যতা ও সামরিক বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় আইআরজিসির জরুরি পদক্ষেপ কীভাবে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
