ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলা অব্যাহত, সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত
ইরানের রাজধানী তেহরানে ভোরের সূর্য উঠলেও গত কয়েক ঘণ্টা ধরে সেখানে অবিরাম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। রোববার (১ মার্চ) বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী শহরটি।
ট্রাম্পের বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে ইরানি মিডিয়া নিশ্চিত করেছে। তবে খামেনির মৃত্যুর পরও ইরানে হামলা বন্ধ করেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভিডিও প্রকাশ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘণ্টা খানেক আগে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং সেগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানছে। ওই পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমান্ড এখন দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ব্যাপক হামলা
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ সবশেষ বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানজুড়ে ইরানি সন্ত্রাসী শাসনের আওতায় থাকা ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে:
- ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র
- শাসন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ টার্গেট
- বিভিন্ন সামরিক কমান্ড সেন্টার
এই ব্যাপক হামলার ফলে ইরানের সামরিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরানের আকাশে এখনও বিমান হামলা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই সংঘাতের ব্যাপকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
