ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলায় নিহত, সুরক্ষিত ভবনে বৈঠককালে আক্রমণ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলায় নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলায় নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) ইরানের তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।

হামলার সময় সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ভোরে ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা চালানোর সময় খামেনি শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন। ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার ঠিক আগে তিনি সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী লারিজানির সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ব দাবি

ইরানি সংবাদমাধ্যমের নিশ্চিতকরণের আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর খামেনি মারা গেছেন। এই দাবি এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে বলে ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিহতদের তালিকা ও স্যাটেলাইট প্রমাণ

ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলায় খামেনি ছাড়াও তার শীর্ষ সহযোগীরা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী শামখানি এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর।

এদিকে, আল জাজিরা শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে পড়েছে এবং এর চারপাশ কালো হয়ে গেছে, যা সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়। এই দৃশ্যগুলো হামলার ভয়াবহতা ও ব্যাপকতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই ঘটনা ইরান ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই যৌথ হামলা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। খামেনির মৃত্যু ইরানের নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি করেছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।