ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত: মৃত্যুর সময় নিজ অফিসেই ছিলেন
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। দেশটির তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সংঘটিত এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মৃত্যুর সময় খামেনির অবস্থান
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শনিবার ভোরে তার তেহরান অফিসে ‘দায়িত্ব পালন করার সময়’ নিহত হন। মৃত্যুর সময় তিনি নিজ অফিসেই অবস্থান করছিলেন, যা প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন গুজবকে ভুল প্রমাণিত করে।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিবিসি নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানে অবস্থিত ‘লিডারশিপ হাউস’ কমপ্লেক্সের কিছু অংশে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই কমপ্লেক্সটিই খামেনির অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সির বক্তব্য
আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলেছে, খামেনির নিজ অফিসে নিহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, তিনি আত্মগোপনে ছিলেন—এমন খবর ছিল ‘শত্রুপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ’। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, এই ঘটনা ইরানের নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা মাত্র।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রতিক্রিয়া
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এক বিবৃতিতে বলেন:
- খামেনির মৃত্যুতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
- এই হামলার জন্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হচ্ছে।
- খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছে আইআরজিসি।
এই প্রতিশোধের অঙ্গীকার আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে, বিশেষত ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে।
হামলার পটভূমি ও প্রভাব
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলাটি ইরানের অভ্যন্তরে একটি সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে ‘লিডারশিপ হাউস’ কমপ্লেক্সের ক্ষয়ক্ষতি, যা হামলার তীব্রতা নির্দেশ করে।
এই ঘটনা ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খামেনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, এবং তার মৃত্যু দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই হামলা ইরান-ইসরাইল সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে, এবং আইআরজিসির প্রতিশোধের অঙ্গীকার ভবিষ্যতে সহিংসতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
