লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে ইসরাইলি বিমান হামলা, নিহত ৪
লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৪

লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে ইসরাইলি বিমান হামলায় চারজন নিহত

লেবানন-সিরিয়া সীমান্তের কাছে একটি গাড়িতে চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এ হামলা চালানো হয় বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

নিহতদের পরিচয় ও ইসরাইলি দাবি

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন সিরীয় নাগরিক খালেদ মোহাম্মদ আল-আহমাদ রয়েছেন। এদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার কথা স্বীকার করে দাবি করেছে, লেবাননে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে)-এর সদস্যদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে তারা এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি।

ইসরাইলি বাহিনী আরও জানায়, লেবাননের মাজদাল আনজার এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। এ বিষয়ে পিআইজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পিআইজে ও হিজবুল্লাহর ভূমিকা

পিআইজে হলো দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডভিত্তিক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা গাজায় হামাসের সঙ্গে মিলে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে। তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মিত্র। ২০২৩ সালে গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধ শুরুর পর ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলে হামলা শুরু করে।

যুদ্ধবিরতি ও চলমান হামলা

২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই সমঝোতা সত্ত্বেও ইসরাইলি বাহিনী লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শত্রুতা বন্ধে সম্মত হওয়ার পর এক বছরে ইসরাইলি বাহিনী ১০ হাজারের বেশি বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে।

বেসামরিক হতাহতের পরিসংখ্যান

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর গত নভেম্বরে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১০৮ জন বেসামরিক নিহত হওয়ার তথ্য তারা যাচাই করেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ২১ জন নারী ও ১৬ জন শিশু রয়েছে।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে, বিশেষ করে লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে।