একটানা কাজ, স্ট্রেস ও ক্লান্তির কারণে অনেকেরই মাথাব্যথা, অবসাদ বা মানসিক ধীরভাব দেখা দিতে পারে। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে এসব উপসর্গকে অনেক সময় সাধারণ সমস্যা হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। ফলে ছোটখাটো শারীরিক অস্বস্তি আর গুরুতর রোগের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে কিছু লক্ষণ যদি বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে দেখা দেয়, তাহলে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হতে পারে। ব্রেন টিউমারের ক্ষেত্রেও কিছু প্রাথমিক লক্ষণ মাইগ্রেন বা সাধারণ মাথাব্যথার মতো মনে হওয়ায় অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি হয়।
১. অস্বাভাবিক মাথাব্যথা
সাধারণ স্ট্রেস বা মাইগ্রেনের মতো না হয়ে এই ধরনের মাথাব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে বা ঘন ঘন হতে পারে। অনেক সময় সকালে এটি বেশি তীব্র অনুভূত হয়। তবে অনেকেই এটিকে ক্লান্তি, ঘুমের অভাব বা পানিশূন্যতার ফল বলে এড়িয়ে যান।
২. অকারণে বমি বমি ভাব
বিশেষ করে সকালে ঘন ঘন বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া মস্তিষ্কে চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত হতে পারে। তবে বেশিরভাগ সময় এটি হজমের সমস্যা বা অ্যাসিডিটির কারণে হচ্ছে বলে মনে করা হয়, ফলে বিষয়টি গুরুত্ব পায় না।
৩. দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন
মস্তিষ্কের টিউমার কখনও কখনও চোখের দেখার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ঝাপসা দেখা, দ্বিগুণ দেখা, হঠাৎ দৃষ্টি কমে যাওয়া, আলোর ঝলকানি দেখা বা পাশের দিক দেখতে সমস্যা হতে পারে। এসব উপসর্গ অনেকেই চোখের চাপ বা দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফল বলে ভুল করে।
৪. স্মৃতিশক্তি বা কথা বলায় সমস্যা
বারবার ভুলে যাওয়া, মনোযোগে ঘাটতি, বিভ্রান্তি বা কথা বলার সময় সঠিক শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা হতে পারে। এগুলো অনেক সময় মানসিক চাপ বা ক্লান্তির কারণে হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া হয়, কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা সঠিক নাও হতে পারে।
৫. শরীরের একপাশে দুর্বলতা
কিছু ক্ষেত্রে শরীরের এক বা উভয় পাশে দুর্বলতা বা চলাচলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
৬. মাথা ঘোরা ও ভারসাম্য হারানো
হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটতে অসুবিধা হওয়া বা সিঁড়ি ওঠানামার সময় অস্থিরতা অনুভব করা হতে পারে সতর্ক সংকেত। অনেকেই এগুলোকে সাধারণ দুর্বলতা বা নিম্ন রক্তচাপ বলে এড়িয়ে যান, কিন্তু বারবার হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



