ভারতের বিমানবাহিনী শক্তিশালীকরণ: ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন
ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

ভারতের বিমানবাহিনীর জন্য বড় অর্জন: ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রাথমিক প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই যুদ্ধবিমানগুলো সরবরাহ করবে ফ্রান্সের বিখ্যাত উড়োজাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান দাসো এভিয়েশন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তির মূল্য ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন রুপি, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ২৮ হাজার ৪০ কোটি ডলার

বিমানবাহিনীর বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা

ভারতের বিমানবাহিনীর ফাইটার স্কোয়াড্রনের সংখ্যা গত কয়েক মাসে কমে মাত্র ২৯-এ নেমে এসেছে, যা অনুমোদিত সংখ্যা ৪২-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই সংকটের পেছনে রয়েছে পুরনো যুদ্ধবিমানগুলোর ধাপে ধাপে অবসর গ্রহণ:

  • সর্বোচ্চ ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান মিগ–২১ গত সেপ্টেম্বরে সম্পূর্ণরূপে অবসরে গেছে।
  • আগামী কয়েক বছরে মিগ-২৯ এর কিছু প্রাথমিক সংস্করণ, অ্যাংলো-ফরাসি জাগুয়ার ও ফরাসি মিরাজ–২০০০ যুদ্ধবিমানও অবসরের পথে রয়েছে।

এই শূন্যতা পূরণে ভারত ইতিমধ্যে সোভিয়েত যুগের মিগ–২১ এর বিকল্প হিসেবে দেশে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমান বিমানবাহিনীতে যুক্ত করেছে। তবে, আধুনিকায়নের জন্য রাফাল যুদ্ধবিমান কেনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রাফাল যুদ্ধবিমানের গুরুত্ব ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা

ফ্রান্সের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের রাফাল আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। অপারেশন সিঁদুরের পর আবারো আলোচনায় এসেছে এই যুদ্ধবিমান। এর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলো বেশ впечатляকর:

  1. ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম।
  2. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫০ হাজার ফুট ওপরে উঠতে পারে, যা এটিকে উচ্চগতির যুদ্ধ মিশনে কার্যকর করে তোলে।

চুক্তিটি বাস্তবায়ন হলে ভারতের সামরিক বাহিনীতে রাফাল জেটের মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭৬টি, যা পূর্বে কেনা ৬২টি যুদ্ধবিমানের সাথে যুক্ত হবে।

মোদি প্রশাসনের প্রতিরক্ষা নীতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গত বছরে পেহেলগাম ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বিরোধীদের তোপের মুখে প্রতিরক্ষা খাত ঢেলে সাজাতে বেশ তৎপর মোদি প্রশাসন। সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, যা এই রাফাল কেনার পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই উদ্যোগকে দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণের এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ফ্রান্সের সাথে এই চুক্তি কেবল সামরিক সহযোগিতা নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেরও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।