ট্রাম্প নিয়ে তর্কের জেরে বাবার হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু ব্রিটিশ তরুণীর
ট্রাম্প নিয়ে তর্কে বাবার হাতে মৃত্যু ব্রিটিশ তরুণীর

ট্রাম্প নিয়ে তর্কের জেরে বাবার হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু ব্রিটিশ তরুণীর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে রাজনৈতিক তর্কের জেরে টেক্সাসে নিজের বাবার হাতেই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন লুসি হ্যারিসন নামে এক ব্রিটিশ তরুণী। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের চেশায়ার কর্নার্স কোর্টে শুরু হওয়া এক ইনকুয়েস্ট বা তদন্ত শুনানি থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

নিহত লুসি হ্যারিসন ছিলেন চেশায়ারের ওয়ারিংটনের বাসিন্দা। গত বছরের ১০ জানুয়ারি টেক্সাসের ডালাসের কাছে প্রসপার এলাকায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। শুনানিতে লুসির প্রেমিক স্যাম লিটলার জানান, ঘটনার দিন সকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ ও তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে বাবা ক্রিস হ্যারিসনের সঙ্গে লুসির ব্যাপক তর্কাতর্কি হয়।

তর্কের একপর্যায়ে লুসি তার বাবাকে প্রশ্ন করেন, ট্রাম্পের দ্বারা লাঞ্ছিত কোনো নারীর জায়গায় যদি লুসি নিজে থাকতেন, তবে তার বাবা কেমন বোধ করতেন? জবাবে ক্রিস হ্যারিসন তাচ্ছিল্য করে বলেন, তার আরও দুই মেয়ে আছে, তাই এতে তিনি খুব একটা বিচলিত হবেন না। বাবার এমন মন্তব্যে লুসি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন, যা পরবর্তী ঘটনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

মারাত্মক দুর্ঘটনার মুহূর্ত

তদন্তে জানা যায়, ওইদিনই বিকালে লুসি এবং তার প্রেমিকের বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা ছিল। রওনা হওয়ার ঠিক আধা ঘণ্টা আগে ক্রিস হ্যারিসন তার মেয়েকে হাত ধরে বেডরুমে নিয়ে যান তার নতুন কেনা ‘গ্লক ৯এমএম’ সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগানটি দেখানোর জন্য। এর মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মাথায় একটি বিকট গুলির শব্দ শোনা যায়। লুসির প্রেমিক ঘরে ঢুকে দেখেন লুসি রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন এবং ক্রিস পাগলের মতো চিৎকার করছেন।

আদালত জানতে পেরেছে, ক্রিস হ্যারিসন আগে থেকেই মদ্যপানের সমস্যায় ভুগে রিহ্যাবে ছিলেন। দুর্ঘটনার দিন তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে আবারও প্রায় ৫০০ মিলিলিটার মদপান করেন, যা তার বিচারবুদ্ধিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল। পুলিশ অফিসার লুসিয়ানা এসক্যালেরা জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ক্রিসের নিশ্বাসে অ্যালকোহলের তীব্র গন্ধ পাওয়া গিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে ঘটনার কিছুক্ষণ আগে মদ কিনতে দেখা গেছে, যা তার মদ্যপানের অভ্যাসকে নিশ্চিত করে।

আদালত ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া

টেক্সাসের গ্র্যান্ড জুরি ক্রিস হ্যারিসনের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আনেনি, যা নিয়ে লুসির পরিবারে ব্যাপক অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে ক্রিস হ্যারিসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই ভুলের বোঝা তিনি সারা জীবন বয়ে বেড়াবেন এবং তার কর্মের জন্য তিনি গভীর অনুশোচনা বোধ করছেন।

অন্যদিকে, লুসির মা জেন কোটস তার মেয়েকে একজন ‘প্রাণবন্ত ও সংবেদনশীল মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, লুসি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ভালোবাসত এবং তার এই আদর্শিক অবস্থানই তাকে এই মর্মান্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, লুসির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং সমগ্র সমাজের জন্য একটি বড় ক্ষতি, যা রাজনৈতিক বিতর্কের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পারে।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক মতপার্থক্য কীভাবে পারিবারিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে গভীর চিন্তার উদ্রেক করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মদ্যপান ও আবেগের মিশ্রণ এই ধরনের ট্রাজেডির জন্য দায়ী হতে পারে, যা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি রাখে।