কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্কুল ও আবাসনে বন্দুক হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত
কানাডায় স্কুলে বন্দুক হামলা: ১০ জন নিহত

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্কুল ও আবাসনে বন্দুক হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় একটি হাইস্কুল ও আবাসনে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পুলিশ বাহিনী রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হামলাকারীও রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও, বন্দুক হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

ঘটনার সময় ও স্থান

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ২০ মিনিটে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাইস্কুলটির নাম টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল। পুলিশের বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি জানিয়েছে, হাইস্কুলে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও একজন মারা গেছেন। এছাড়া, একটি বাড়িতে আরও দুইজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যাদের এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।

হামলাকারীর পরিণতি

পুলিশের ধারণা, হামলাকারী নিজেই নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন। আরসিএমপি এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং বলেছে যে, তদন্ত চলছে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র বের করার জন্য। হামলাকারীর পরিচয় ও উদ্দেশ্য এখনও অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

আহতদের অবস্থা

আরসিএমপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুরুতর আহত দুইজনকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া, আনুমানিক ২৫ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে তাদের অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ অবশিষ্ট সব শিক্ষার্থী ও স্টাফকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনার খবর বিবিসি ও আল জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। কানাডার কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। স্থানীয় সম্প্রদায় শোক ও আতঙ্কে নিমজ্জিত হয়েছে, এবং এই ঘটনা কানাডায় বন্দুক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।

পুলিশ এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এই ঘটনা কানাডার সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি বড় ধরনের বন্দুক হামলা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে, যা দেশটির নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।