লন্ডনে দুই ইহুদিকে ছুরিকাঘাত, অবস্থা আশঙ্কাজনক
লন্ডনে দুই ইহুদিকে ছুরিকাঘাত, অবস্থা আশঙ্কাজনক

যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় ছুরিকাঘাতে দুই ইহুদি ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরে এক ব্যক্তি ছুরি হাতে জনবহুল সড়কে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় ইহুদি নিরাপত্তা সংস্থা ‘শমরিম’।

ঘটনার বিবরণ

সংস্থাটি জানায়, তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরে ফেলে। পরে পুলিশ এসে ইলেকট্রিক গান বা ‘টেজার’ ব্যবহার করে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এ গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা গেডাল ওয়াইনবার্গ জানান, তার বাড়ির ঠিক সামনেই এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে গোল্ডার্স গ্রিন রোডের দোকানের সামনে এবং অন্যটি পাশের একটি সড়কের সিনাগগের (ইহুদি উপাসনালয়) সামনে। এলাকাটি বর্তমানে পুলিশ ঘিরে রেখেছে এবং সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এ হামলাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘তদন্ত চলছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে আমাদের সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। সম্প্রতি এমন অপরাধ আমরা বড্ড বেশি দেখছি’। ফিনচলে ও গোল্ডার্স গ্রিনের এমপি সারাহ স্যাকম্যান এ ঘটনাকে ‘অসহনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ ইহুদিদের ওপর হামলা মানে খোদ ব্রিটেনের ওপরই হামলা’। তিনি এ পরিস্থিতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন বলে জানিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও নিরাপত্তা

বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে যে, হামলায় আহত দুই ব্যক্তিই ইহুদি এবং তাদের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক। ‘হাতজোলা’ নামের একটি ইহুদি জরুরি সেবা সংস্থা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত মাসেই এ এলাকায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে একই সংস্থার বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ভস্মীভূত হয়েছিল। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান জানিয়েছেন, তিনি মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং ইহুদি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

প্রেক্ষাপট

লন্ডনে গত এক মাস ধরে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিদ্বেষমূলক হামলা বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।