লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী সাংবাদিকসহ পাঁচজন নিহত, যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিক নিহত, যুদ্ধবিরতি ঝুঁকিতে

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী সাংবাদিকসহ পাঁচজন নিহত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক নারী সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দেশটিতে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ। সংস্থাটি জানায়, বুধবার (২২ এপ্রিল) লেবাননের আত-তিরি গ্রামে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।

হামলার বিস্তারিত বিবরণ

ইসরায়েলের দাবি, ওই গাড়ি হিজবুল্লাহর একটি সামরিক স্থাপনা থেকে বের হয়েছিল। ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আল আখবার-এর দুই সাংবাদিক আমাল খলিল ও জয়নব ফারাজ। ড্রোন হামলার পর একটি ভবনে আশ্রয় নিলেও সেখানে ফের বিমান হামলা চালানো হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর আমাল খলিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত জয়নব ফারাজকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

লেবাননের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, সাংবাদিকদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং উদ্ধারকাজ ব্যাহত করতে আশপাশের সড়কেও হামলা চালানো হয়। দেশটির তথ্যমন্ত্রী পল মরকোস এ ঘটনাকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য ঘটনা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর আল-শাকিফ এলাকায় পৃথক আরেক হামলায় আরও দুইজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা একটি শত্রু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এদিকে, সংঘাতের মধ্যে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতদের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে হামলা

অন্যদিকে, লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন ইউনিফিলের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় আহত ফরাসি সেনা করপোরাল আনিসেত গিরার্দিন মারা গেছেন। এ ঘটনায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হিজবুল্লাহকে দায়ী করলেও সংগঠনটি অভিযোগটি অস্বীকার করেছে। এই ঘটনাগুলো লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।