ইরান সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এস্তোনিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এস্তোনিয়ায় গোলাবারুদ সরবরাহ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্নো পেভকুর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে এস্তোনিয়াকে তাদের পূর্বের প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
স্থগিতাদেশের বিস্তারিত ও প্রভাব
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন তাদের মিত্র দেশগুলোর কাছে পাঠানো কিছু অস্ত্রের চালান স্থগিত করেছে। এস্তোনিয়ার সংবাদমাধ্যম ইআরআর মঙ্গলবার জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির হিমার্স ব্যবস্থার গোলাবারুদ সরবরাহে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়ে পেভকুর বলেন, "আমরা আগে থেকেই জানতাম যে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের গোলাবারুদ সরবরাহ স্থগিত রেখেছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আলোচনা মূলত গোলাবারুদ সরবরাহ কবে নাগাদ আবার শুরু হতে পারে তা নিয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল। যদি এই সরবরাহ দীর্ঘ সময় ধরে স্থগিত থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন থেকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প কী হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
প্রধান উদ্বেগ ও সম্ভাব্য সময়সীমা
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, মূলত হিমার্স ও জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে প্রধান উদ্বেগ রয়েছে। চলতি বছর ও আগামী বছরের জন্য নির্ধারিত যেসব গোলাবারুদ সরবরাহের কথা ছিল, তার মূল্য কয়েক কোটি ইউরো। তবে সঠিক হিসাব বা সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি। পেভকুর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই স্থগিতাদেশ কয়েক সপ্তাহ নয়, বরং কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।
ইরান সংঘাত শেষ হলে সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার আশা রয়েছে। তবে দেরি হলে এস্তোনিয়াকে তাদের প্রতিরক্ষা ক্রয়ের পরিকল্পনা নতুন করে মূল্যায়ন করতে হতে পারে।
পটভূমি ও আঞ্চলিক প্রভাব
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তা বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে নতুন আলোচনার সম্ভাবনা এবং বিশ্বের তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের পথ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই আঞ্চলিক উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সরবরাহকে প্রভাবিত করছে, যা এস্তোনিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনায় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।



