চুক্তি না হলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে ইরানে মার্কিন হামলার হুমকি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকেই ইরানে ফের হামলা চালানো শুরু হবে। এছাড়া চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তিনি 'খুবই কম' বলে উল্লেখ করেছেন।
যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার বর্তমান অবস্থা
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা ২২ এপ্রিল বুধবার শেষ হওয়ার কথা। এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র তিন দিন পরই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা।
কিন্তু দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও কোনো ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই সেই বৈঠক সমাপ্ত হয়েছে। এই ব্যর্থতার ফলে দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়েও এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এই অবস্থা।
ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট হুমকি
সোমবার (২০ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি ২২ এপ্রিলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা।
এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে বলেন, 'এমন সম্ভাবনা খুবই কম।' পরবর্তীতে ব্লুমবার্গের প্রতিনিধি জানতে চান, সেক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী ইরানে ফের অভিযান শুরু করতে পারে কিনা।
ট্রাম্পের জবাব ছিল আরও স্পষ্ট ও হুমকিপূর্ণ: 'যদি যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে কোনো চুক্তিস্বাক্ষর না হয়— সেক্ষেত্রে অবশ্যই অভিযান শুরু হবে; বুধবার সন্ধ্যা থেকেই শুরু হবে।'
ট্রাম্পের চুক্তি সংক্রান্ত অবস্থান
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্যে এটাও উল্লেখ করেছেন যে তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো 'বাজে চুক্তি' করার তাগিদে নেই। তিনি বলেন, 'আমি ইরানের সঙ্গে কোনো বাজে চুক্তি করার ব্যস্ত হয়ে উঠিনি। আমরা একটি ভালো চুক্তি চাই এবং এজন্য যত সময় লাগে— লাগুক। আমাদের হাতে প্রচুর সময় আছে।'
এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত চুক্তির চেয়ে একটি 'ভালো চুক্তি'কেই প্রাধান্য দিচ্ছে, এমনকি যদি তার জন্য যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের যুদ্ধ শুরু করতে হয় তবেও।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এই হুমকিপূর্ণ বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অবস্থা মধ্য প্রাচ্যের অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পাকিস্তান সফর নিয়ে তৈরি ধোঁয়াশাও এই অঞ্চলের কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— ২২ এপ্রিল বুধবারের মধ্যে কি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, নাকি ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হয়ে ফের শুরু হবে যুদ্ধ? বিশ্ব সম্প্রদায় উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।



