অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে 'গড মোড' ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে পড়ছে, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলা স্মার্টফোনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম একটি অত্যন্ত উন্নত ম্যালওয়্যার শনাক্ত করেছেন। 'গড মোড' নামের এই ম্যালওয়্যারটি সাধারণ ভাইরাসের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং একবার ফোনে প্রবেশ করলে তা অপসারণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন বার্তা, কন্টাক্ট লিস্ট এবং ওটিপি কোড, গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ম্যালওয়্যারটি কীভাবে কাজ করে?
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গড মোড ম্যালওয়্যারটি অ্যান্ড্রয়েডের 'অ্যাকসেসিবিলিটি সার্ভিস' ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে সিস্টেমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফিচারে গোপনে প্রবেশ করে। এরপর, এটি ব্যবহারকারীর অজান্তেই বার্তা পড়া, ফোনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন নির্দেশনা কার্যকর করতে সক্ষম হয়। এমনকি, ম্যালওয়্যারটি ওটিপি চুরি বা কন্টাক্ট লিস্টে থাকা ফোন নম্বরগুলোও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা আর্থিক ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ম্যালওয়্যারটি কীভাবে ছড়াচ্ছে?
জানা গেছে, গড মোড ম্যালওয়্যারটি মূলত ভুয়া অ্যাপের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে, এসব অ্যাপ দেখতে ব্যাংকিং সেবা বা প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি অ্যাপের মতো হওয়ায় ব্যবহারকারীরা সহজেই বিভ্রান্ত হন। বার্তা বা ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো লিংক বা অনিরাপদ উৎস থেকে এসব অ্যাপ ডাউনলোডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অজান্তেই ম্যালওয়্যারটি ফোনে প্রবেশ করছে। ইনস্টল করার পর, ম্যালওয়্যারটি অ্যাপগুলো ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতে একাধিক সংবেদনশীল অনুমতি চায়, যা অনেক সময় যাচাই না করেই অনুমোদন দিয়ে থাকেন ব্যবহারকারীরা।
সুরক্ষার উপায় কী?
গড মোড ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষিত থাকতে ব্যবহারকারীদের গুগল প্লে স্টোরের মতো নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। শুধু তা-ই নয়, অপরিচিত উৎস থেকে এপিকে ফাইল ডাউনলোড বা অন্যদের পাঠানো লিংকে ক্লিক না করাসহ অ্যাপ নামানোর আগে শর্তগুলো ভালোভাবে জানতে হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এছাড়াও, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট এবং অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকি কমাতে পারেন ব্যবহারকারীরা।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই ধরনের ম্যালওয়্যার ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে, তাই সচেতনতা এবং সতর্কতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহারকারীদের উচিত তাদের ডিভাইসের নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত মনোযোগ দেওয়া এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।



