ভারতের কাশ্মীরে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২১, আহত ৪৫; প্রধানমন্ত্রী মোদির শোক প্রকাশ
কাশ্মীরে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২১, আহত ৪৫

ভারতের কাশ্মীরে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২১, আহত ৪৫; প্রধানমন্ত্রী মোদির শোক প্রকাশ

ভারত-শাসিত কাশ্মীরের উধমপুর জেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস পাহাড়ি রাস্তা থেকে ছিটকে গভীর খাদে পড়ে গিয়ে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় উধমপুরের কানোত গ্রামের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

৪২ জন যাত্রী ধারণক্ষমতার বাসটিতে দুর্ঘটনার সময় ৬০ জনেরও বেশি আরোহী ছিলেন। পাহাড়ের একটি বিপজ্জনক বাঁক নেওয়ার সময় বাসটি একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৩০ মিটার (১০০ ফুট) নিচে পাথুরে খাদে পড়ে যায়। কাশ্মীরের স্থানীয় সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর প্রেম সিং সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রেম সিং জানান, বাসটি রামনগর শহর থেকে উধমপুর শহরের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনি আরও জানান, ১৯ জন যাত্রী দুর্ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহত ও চিকিৎসার অবস্থা

এই ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং রামনগর সাব-ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, নিহতদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে।

প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতিক্রিয়া

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং পাহাড়ি রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনার পর। ভারতে সড়ক দুর্ঘটনার হার বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ এবং প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, রাস্তার বেহাল দশা এবং পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচলের কারণেই এই দুর্ঘটনাগুলো বারবার ঘটছে। বিশেষ করে কাশ্মীরের মতো পাহাড়ি অঞ্চলে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই বাসগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সোমবারের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সেই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্রই আবারও ফুটিয়ে তুলেছে।