বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সামষ্টিক অর্থনৈতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রাজিলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আর্জেন্টিনার তুলনায় অনেক গভীর।
বাণিজ্যের চিত্র
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট আমদানি ব্যয় ছিল ৬৭.৩৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ব্রাজিল থেকে আমদানি হয়েছে ২.৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা মোট আমদানির প্রায় ৩.৯ শতাংশ। এই হিসাবে ব্রাজিল বাংলাদেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম আমদানি উৎস। অন্যদিকে, একই সময়ে আর্জেন্টিনা থেকে আমদানি হয়েছে ৭৮৫ মিলিয়ন ডলার, যা মোট আমদানির মাত্র ১.২ শতাংশ। এই হিসেবে আর্জেন্টিনা ১৭তম অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনার চেয়ে তিন গুণের বেশি পণ্য আমদানি করে।
পণ্যের ধরন
বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে মূলত কাঁচা চিনি, কাঁচা তুলা, সয়াবিন ও ভুট্টা আমদানি করে। বিশেষ করে ব্রাজিলের কাঁচা তুলা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল, যা দেশের শীর্ষ রপ্তানি খাতের সঙ্গে ব্রাজিলের কৃষি উৎপাদনকে সরাসরি যুক্ত করেছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা থেকে আমদানি মূলত অপরিশোধিত সয়াবিন তেল, শস্য ও কিছু কৃষিপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
অর্থনৈতিক আকার
ব্রাজিল বর্তমানে বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম অর্থনীতি। সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের (সিইবিআর) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০২৬ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্রাজিলের নামমাত্র জিডিপি প্রায় ২.৩০ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা বিশ্বের ২৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অস্থিরতার মতো সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করায় আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সক্ষমতা কমেছে।
রপ্তানি বাজার
বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে রপ্তানি হয়েছে ১৮৭.৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। ব্রাজিল বাংলাদেশের পণ্যের জন্য ২৭তম বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে জার্সি, পুলওভার, শার্ট, ট্রাউজার ও বিভিন্ন নিটওয়্যার আইটেম। অন্যদিকে, একই সময়ে আর্জেন্টিনায় বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২১.৬ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের মাত্র ০.০৪ শতাংশ এবং দেশটি ৬৫তম অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ ব্রাজিলে আর্জেন্টিনার চেয়ে প্রায় আট গুণ বেশি পণ্য রপ্তানি করে।
আঞ্চলিক সম্পর্ক
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দক্ষিণ আমেরিকায় ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক অংশীদার। দুটি দেশই সাউদার্ন কমন মার্কেট (মার্কোসুর) এর প্রধান চালিকাশক্তি। অবজারভেটরি অব ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ব্রাজিল আর্জেন্টিনায় প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে অটোমোটিভ অ্যাসেম্বলি, মোটর গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ভারী ট্রাক। একই সময়ে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলে ১৩.০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ডেলিভারি ট্রাক, যাত্রীবাহী গাড়ি ও বাল্ক গম। এই ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য প্রমাণ করে যে ক্রীড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও দুটি দেশ লাতিন আমেরিকায় ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগী হিসেবে কাজ করে।



