ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে মোটরবাইকের সামান্য ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে এক ভয়াবহ খুনের ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য সড়কে নির্মম এই হামলায় এক বাবা ও তার ছেলে নিহত হয়েছেন এবং তার আরেক ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
রবিবার গভীর রাতে নওবস্তা থানা এলাকার যশোদা নগর বাইপাসের বৃন্দাবন গেস্ট হাউসের কাছে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, একটি অ্যাপাচি মোটরবাইকে থাকা তিন আরোহীর সঙ্গে অন্য একটি বাইকের ধাক্কা লাগলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড তর্কাতর্কি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা প্রথমে হেলমেট, লাথি ও কিলঘুষি মেরে ওই বাবা ও তার দুই ছেলেকে মারধর শুরু করে। এরপর হঠাৎ তারা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্য সড়কের মাঝখানেই তাদের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত হয়ে তিনজনই ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন।
উদ্ধার ও হামলাকারীদের গ্রেফতার
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও পথচারীরা এগিয়ে এসে উদ্ধারের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের সঙ্গেও চরম দুর্ব্যবহার করে। তবে একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া করে এক অভিযুক্তকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করতে পারলেও বাকি দুজন পালিয়ে যায়। পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে হ্যালেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবা ও তার এক ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন অপর ছেলে।
নিহতদের পরিচয় ও তদন্ত
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় মিলেছে, তার নাম শিবম। তিনি চকেরির কয়লা নগরের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীরা কিদওয়াই নগরের কনক মার্বেল-এ কাজ করতেন এবং রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এই নৃশংসতার শিকার হন। কানপুরের পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে একজন অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ব্লিনকিট-এ কাজ করেন এবং বাকি দুজন বেকার। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।



