গাজায় সহায়তা ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ
গাজায় ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি নির্যাতনের অভিযোগ

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লোটিলার কর্মীদের ওপর আটক অবস্থায় অমানবিক নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২২ মে) মুক্তি পাওয়া একাধিক কর্মী জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বন্দি থাকাকালীন তারা শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের দাবি, অন্তত ১৫ জন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাও রয়েছে।

ফ্লোটিলা কর্মীদের আটক ও নির্যাতনের বিবরণ

ফ্লোটিলার আয়োজক সংস্থা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে প্রায় ৪৩০ জন কর্মীকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে একটি ইসরায়েলি জাহাজকে রূপান্তর করা অস্থায়ী কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়, যা শিপিং কনটেইনার ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তৈরি ছিল। ভুক্তভোগী কর্মীদের অভিযোগ, কনটেইনারের ভেতরে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপমানজনক দেহ তল্লাশি, স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত, যৌন হয়রানি এবং একাধিক ধর্ষণের ঘটনা।

আহত কর্মীদের অবস্থা

ইতালীয় কর্মী ইলারিয়া মানকোসু জানান, আটক অবস্থায় অনেকের হাত ও পাঁজর ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং টেজার গান ব্যবহারের কারণে অনেকেই কান ও চোখের গুরুতর জখমে আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকি টানা দুদিন তাদের পানি পান করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইতালির রোমের প্রসিকিউটররা এই অপহরণ, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছেন। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগগুলোকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ফ্রান্সে ফিরে যাওয়া আহত নাগরিকদের কয়েকজন তুরস্কে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। ভিডিওতে তাকে বন্দি কর্মীদের নিয়ে উপহাস করতে দেখা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইইউতে নিষেধাজ্ঞার আলোচনা

এই ঘটনার জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো বেন-গভিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। যদিও ভুক্তভোগী কর্মীরা এবং তাদের আয়োজক সংস্থা এই ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে, তবে ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা স্বতন্ত্রভাবে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। ফ্লোটিলার কর্মীদের ওপর এই নিষ্ঠুর আচরণের বিষয়টি এখন বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।