বঙ্গোপসাগরে ভারতের গ্যাস চুরির প্রমাণ দিল চীন, নতুন সরকারের জ্বালানি চুক্তির পথে বাংলাদেশ
বঙ্গোপসাগরে ভারতের গ্যাস চুরি: চীনের প্রমাণে নতুন জ্বালানি সমীকরণ

চীন তাদের অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও সাব-সারফেস ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রমাণ দিয়েছে যে ভারত বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ‘স্ল্যান্ট ড্রিলিং’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস চুরি করছে। এই তথ্য বাংলাদেশের নতুন সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিগত ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এই চুরি চলছিল বলে অভিযোগ।

স্ল্যান্ট ড্রিলিং: বিজ্ঞানের আড়ালে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি

পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থ উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে ধাবিত হয়। ভারত এই নিয়ম কাজে লাগিয়ে নিজ সীমান্তে সরাসরি খনন না করে বাঁকা পদ্ধতিতে বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রে পাইপ প্রবেশ করিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ গ্যাস কৃত্রিম নিম্নচাপের কারণে ভারতের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৯৯০ সালে ইরাক-কুয়েত যুদ্ধের সময়ও একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। ইরাক অভিযোগ করেছিল, কুয়েত স্ল্যান্ট ড্রিলিং করে রুমায়লা অয়েল ফিল্ড থেকে তেল চুরি করছে, যা যুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল।

সমুদ্র জয়ের ট্র্যাজেডি: ওএনজিসি ও দিল্লির নকশা

২০১২ সালে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আদালতের (ITLOS) রায়ে বাংলাদেশ বিশাল সমুদ্রসীমা লাভ করে। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই সেই ব্লকগুলোর দায়িত্ব ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি ও অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডকে দিয়ে দেয়। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও ভারতীয় কোম্পানিগুলো বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ছিল দিল্লির পরিকল্পিত কৌশল—বাংলাদেশের ব্লকগুলো অচল রেখে ভারত নিজের ব্লক থেকে গ্যাস উত্তোলন করে বাংলাদেশের রিজার্ভ স্থানান্তরিত করা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃত্রিম সংকট ও এলএনজি সিন্ডিকেট

এই চুরির কারণে বাংলাদেশে কৃত্রিম গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়। হাসিনা সরকার তখন চাহিদা মেটাতে বিশ্ববাজার থেকে চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু করে, যা ভারতের আদানি গ্রুপের মতো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়, যা দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পে গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও চীনের ভূমিকা

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমানের সরকার জাতীয়তাবাদ ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে। নতুন সরকার ঘোষণা দিয়েছে, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমি ও সমুদ্রের এক ফোঁটা সম্পদ অন্য কাউকে দেয়া হবে না। চীন এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে গ্যাস চুরির প্রমাণ দিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট থেকে পরিত্রাণের জন্য একটি যুগান্তকারী অফার এনেছে। বাংলাদেশের নতুন সরকার চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিএনওওসির সাথে একটি কৌশলগত জ্বালানি চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা গভীর সমুদ্রে সাশ্রয়ী ও কার্যকরী প্রযুক্তি সরবরাহ করবে।

দিল্লির উদ্বেগ ও ভূ-রাজনীতির নতুন মোড়

এই চুক্তির খসড়া দিল্লিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভারত এতদিন বঙ্গোপসাগরকে নিজের একচেটিয়া প্রভাব বলয় মনে করলেও এখন বাংলাদেশের আমন্ত্রণে চীনের কারিগরি হস্তক্ষেপ ঘটছে। চীনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ নিজস্ব ব্লক থেকে পূর্ণ শক্তিতে গ্যাস উত্তোলন শুরু করলে ভারতের কৃত্রিম নিম্নচাপ আর কাজ করবে না, এবং বাংলাদেশ জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জন করবে।

শেখ হাসিনার সেই উক্তি—'ভারতকে যা দিয়েছি তা কখনো ভুলতে পারবে না'—এখন জনগণের সামনে একটি নির্মম সত্য হিসেবে উন্মোচিত হয়েছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড বঙ্গোপসাগরের গ্যাসভাণ্ডার প্রতিবেশীর হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত ছিল। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ নিজের অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে। চীনের সাথে গভীর সমুদ্রে এই নতুন যাত্রা কেবল ভারতের অবৈধ লুণ্ঠন প্রতিহত করবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি মানচিত্র পরিবর্তন করে একটি সার্বভৌম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করবে।