হাওর বন্যায় ৭৫ হাজার হেক্টর ফসল নষ্ট, টেকসই সমাধানের দাবি
হাওর বন্যায় ৭৫ হাজার হেক্টর ফসল নষ্ট, টেকসই সমাধান চায় সংগঠন

হাওর অঞ্চলের চলমান বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ফসলহানির প্রেক্ষাপটে টেকসই সমাধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশবাদী ও নাগরিক সংগঠনগুলো। রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা এবং নাগরিক উদ্যোগের যৌথ আয়োজনে 'হাওর অঞ্চলে চলমান বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ফসলহানি, দুর্যোগ পরিস্থিতি এবং হাওরবাসীর দাবি' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের মূল আলোচনা

বাপার সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা। সঞ্চালনা করেন বাপার কোষাধ্যক্ষ আমিনুর রসুল।

লিখিত বক্তব্যে কাসমির রেজা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত টানা তিন দফা বৃষ্টিপাত ও ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অন্তত ৭৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। শিলাবৃষ্টিতে আরও প্রায় ৮০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটাতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, যেসব জমির ধান কাটা হয়েছে, তা বৃষ্টির কারণে শুকানো যাচ্ছে না। অনেক ধান পচে গেছে, আবার মাড়াই করা ধান পানির তোড়ে ভেসে যাচ্ছে। এতে হাওরের কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বক্তাদের উদ্বেগ

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ফসলহানির প্রভাব কৃষকদের জীবিকা, ঋণ পরিশোধ, শিক্ষা ও চিকিৎসায় পড়বে। এটি কেবল স্থানীয় নয়, জাতীয় সংকট। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

ড. হালিমদাদ খান বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ আসে হাওর অঞ্চল থেকে। ফলে ফসলহানি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করতে হবে এবং বর্গাচাষিদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ সংকটের ফলে বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বাড়তে পারে।

সভাপতির বক্তব্য

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, এবারের সংকট শুধু প্রাকৃতিক নয়; এটি নীতিগত, পরিকল্পনাগত ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার ফল। নদীর নাব্যতা হ্রাস, অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ, বিলম্ব ও অনিয়ম পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

ডা. ওমর খৈয়াম হাওরের জন্য স্বতন্ত্র উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানান। রুহিন হোসেন প্রিন্স অভিযোগ করেন, ফসলরক্ষা বাঁধের নামে প্রতিবছর অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে, যা বন্ধ না করলে হাওর রক্ষা সম্ভব নয়।

১৫ দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে ১৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য পরিবারপ্রতি বছরজুড়ে ৩০ কেজি চাল ও এক হাজার টাকা সহায়তা, নদী-খাল-বিল খনন, অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ বন্ধ, ফসলরক্ষা বাঁধে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বিজ্ঞানভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর স্লুইসগেট নির্মাণ, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়, সুদমুক্ত ঋণ ও পুনঃতফশিল, কমিউনিটি মাড়াই কেন্দ্র ও ড্রায়ার স্থাপন, বজ্রপাত প্রতিরোধে উদ্যোগ, জলমহালের লিজ বাতিল, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু তহবিল থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধি।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন পরিবেশবাদী, নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।