চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সম্ভাব্য ঝড়ের কারণে স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর তিন প্রদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখনই সময় কর্তৃপক্ষের মনে রাখার যে, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি নেওয়া ভালো, পরে প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেয়ে।
প্রতিরোধ বনাম প্রতিক্রিয়া
ঘূর্ণিঝড় হোক বা বন্যা, এগুলো প্রতি বছর অনিবার্য বাস্তবতা। লক্ষ লক্ষ মানুষ যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হয়, তখন আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত তাড়াহুড়ো করে সাড়া না দেওয়া। প্রতি বছরের শিক্ষা স্পষ্ট: প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিতে হবে প্রতিক্রিয়ার ওপর।
অগ্রগতি ও অসমতা
বাংলাদেশ প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় অগ্রগতি অর্জন করলেও, প্রস্তুতি এখনও অসম। অনেক সম্প্রদায়ের টেকসই অবকাঠামো, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র ও নির্ভরযোগ্য উচ্ছেদ পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। এছাড়া, শহরাঞ্চলে নিষ্কাশন ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত, আর গ্রামীণ অঞ্চলে বাঁধ চাপে ভেঙে পড়ে।
অবহেলার মূল্য
প্রতিটি দুর্যোগে অবহেলার মূল্য বিশাল। প্রতিটি দুর্যোগ জীবিকা ধ্বংস করে, পরিবারকে উদ্বাস্তু করে এবং জাতীয় সম্পদ নিঃশেষ করে। আরও খারাপ, এই চক্র পুনরাবৃত্ত হয় কারণ প্রতিরোধকে উপেক্ষা করে স্বল্পমেয়াদী সমাধানে মনোযোগ দেওয়া হয়। এটি টেকসই নয়, অন্তত বলতে গেলে।
প্রস্তুতির উপায়
প্রস্তুতি মানে টেকসই অবকাঠামোয় অব্যাহত বিনিয়োগ, সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বন্যা-প্রতিরোধী আবাসন পর্যন্ত। এর অর্থ স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা যাতে সম্প্রদায় দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং প্রতিটি নীতি সিদ্ধান্তে জলবায়ু অভিযোজন একীভূত করা।
সাংস্কৃতিক পরিবর্তন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এটি একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন দাবি করে: দুর্যোগ প্রস্তুতিকে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি স্থায়ী জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা। আমরা ঘূর্ণিঝড় বা বন্যা থামাতে পারি না। তবে আমরা তাদের প্রভাব কমাতে পারি। প্রতিরোধই এর উপায়, যাতে আরও বেশি প্রাণ রক্ষা পায় এবং আরও বেশি জীবিকা সুরক্ষিত হয়।



