রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বুধবার সকাল থেকেই ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে গেছে, আর মাঝেমধ্যে দমকা হাওয়ার সাথে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষজন।
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ
মগবাজারের মধুবাগের বাসিন্দা প্রতীক বর্ধন সকালে সন্তানকে স্কুলে দিতে গিয়ে ভিজে একশা হয়েছেন। তাঁর ছেলে ইস্কাটনের একটি স্কুলে পড়ে। সকাল আটটায় ক্লাস শুরু হওয়ায় রিকশাযোগে যেতে গিয়েই বিপত্তি। রিকশা পাওয়া দুষ্কর ছিল, আর যে রিকশা পাওয়া গেল তাতে পলিথিন ছিল না। ঝোড়ো হাওয়ায় ছাতা উড়ে যাচ্ছিল বারবার, ফলে বৃষ্টির পানি এসে পড়ছিল গায়ে। সন্তানকে স্কুলে দিয়ে কারওয়ানবাজারে আসার পথেও একই অবস্থা।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তর গত মঙ্গলবার সকালেই পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। এ সময় কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কাও রয়েছে। ৪৪ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিকে ভারী বৃষ্টি বলা হয়। রাজধানীতে রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নয়, তবে মেঘলা আকাশ ও মেঘের গর্জন চলছে।
বৃষ্টির কারণ
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, দেশের ভেতরে গভীর সঞ্চরণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়েছে, যা সরতে সময় নিচ্ছে। সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাবও রয়েছে। এ সময় এটা অস্বাভাবিক নয়। তবে টানা বৃষ্টি হবে না, থেমে থেমে বৃষ্টি হবে এবং মাঝেমধ্যে আকাশ পরিষ্কার হতে পারে।
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ
গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬১ মিলিমিটার। ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিকে অতি ভারী বৃষ্টি বলা হয়। আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ভোলা ও খুলনা অঞ্চলে মেঘ কিছুটা কেটেছে। রাজধানীতে বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশ থাকতে পারে দিনজুড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ কাটলেও রোদেলা আকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বিকেলের দিকে বৃষ্টি কিছুটা কমতে পারে।



