ট্রাম্পের ঘোষণা: গাজা পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলার ও আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের প্রতিশ্রুতি
গাজা পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলার ও আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের ঘোষণা

গাজা পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলার ও আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, শান্তি পর্ষদের সদস্য দেশগুলো আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠকে গাজা ভূখণ্ডের পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেবে। গতকাল রোববার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা

ট্রাম্পের পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ফিলিস্তিনি অঞ্চলে স্থানীয় পুলিশ গড়ে তোলার জন্য জাতিসংঘ অনুমোদিত একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনে হাজারো কর্মী দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি গাজায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে।

প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বিস্তারিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার শান্তি পর্ষদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকটি হবে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অব পিসে, যা সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে নামকরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধানসহ ২০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি দল এই সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শান্তি পর্ষদ গঠনের পটভূমি

গাজায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাবের মাধ্যমে এই পর্ষদ গঠনের বিষয়টি অনুমোদন করেছিল। গত বছর ইসরায়েল ও হামাস এই পরিকল্পনায় সম্মত হয় এবং অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

তবে উভয় পক্ষই বারবার একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ৫৯০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে যে, একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হাতে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছে।

সদস্য দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

শান্তি পর্ষদে তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব, কাতার ও ইসরায়েলের মতো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ যোগ দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্ররা এই বিষয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।

এই উদ্যোগের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং অঞ্চলের জটিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলার উপর। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গাজার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা প্রদান শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।