কাজাখস্তানে ১৫ মার্চ গণভোট: নতুন সংবিধানে তোকায়েভের ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা
মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তানে আগামী ১৫ মার্চ নতুন সংবিধানের প্রশ্নে গণভোট আয়োজন করা হতে যাচ্ছে। এই গণভোটের ফলাফল যদি নতুন সংবিধানের পক্ষে যায়, তাহলে প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ ২০২৯ সালের পর পর্যন্ত শাসনক্ষমতায় থাকার সুযোগ পেতে পারেন।
নতুন সংবিধানের মূল পরিবর্তনসমূহ
নতুন খসড়া মৌলিক আইনে কাজাখস্তানের পার্লামেন্টের আকৃতি কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমান দুই কক্ষের পার্লামেন্টের স্থলে হবে এক কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট এবং আইনপ্রণেতার সংখ্যাও হ্রাস করা হবে। এছাড়াও, ১৯৯৬ সালে বিলুপ্ত হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ পুনর্বহাল করা হবে এই সংবিধানে।
তোকায়েভের ক্ষমতা বৃদ্ধির পথ
সাবেক সোভিয়েত ও কাজাখ কূটনীতিক তোকায়েভ ২০২২ সালে নিজেই এক মেয়াদে সাত বছর প্রেসিডেন্ট থাকার নিয়ম চালু করেছিলেন। নতুন খসড়াতেও এই এক মেয়াদে সাত বছরের সীমাবদ্ধতা বহাল রাখা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংবিধান পাস হলে তোকায়েভের আগের মেয়াদটি পুরোনো সংবিধানের আওতাভুক্ত হিসাবে বাতিল বলে গণ্য হতে পারে, যা তাকে আবারও নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেবে।
এর আগে রাশিয়া, বেলারুশ ও উজবেকিস্তানের নেতারাও একইভাবে সংবিধান সংশোধন করে নিজেদের মেয়াদের সময়সীমা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন।
কাজাখস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি
কাজাখস্তানে এই গণভোট এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন দেশটিতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতি চরমে এবং কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০১৯ সালে কাজাখস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট নূরসুলতান নাজারবায়েভের উত্তরসূরি হিসেবে তোকায়েভ ক্ষমতায় আসেন। শুরুতে নাজারবায়েভের প্রভাব থাকলেও ২০২২ সালের প্রাণঘাতী দাঙ্গার পর তোকায়েভ তার পূর্বসূরিকে সব ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২ শতাংশ উৎপাদনকারী এই দেশটি বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্ব, রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন সংবিধানের অধীনে তোকায়েভের পুনরায় ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকলেও এ বিষয়ে এখনও কোনও স্থির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কাজাখস্তানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই গণভোটের ফলাফলের উপর, যা দেশটির শাসন কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
