এপস্টেইন নথিতে গোপন ছয় ব্যক্তির নাম প্রকাশ করলেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রো খান্না
কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা ছয়টি নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য রো খান্না। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন কংগ্রেসের ফ্লোরে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য দেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নথি পর্যালোচনা ও নাম প্রকাশের প্রক্রিয়া
রো খান্না এবং রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টমাস ম্যাসি বিচার বিভাগে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অপ্রকাশিত বা ‘আনরেডাকটেড’ নথিগুলো পর্যালোচনা করেন। এরপরই তিনি কংগ্রেসের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে এই নামগুলো প্রকাশ করেন। খান্না জানান, তিনি নামগুলো চিহ্নিত করার পর বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের ভুলের কথা স্বীকার করেন এবং নামগুলো উন্মুক্ত করে দেন। ইতিপূর্বে বিচার বিভাগ এই নামগুলো কালো কালিতে ঢেকে রেখেছিল, যা জনগণের দৃষ্টি থেকে আড়াল করছিল।
প্রকাশিত তালিকায় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ
প্রকাশিত তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম হলো যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ৮৮ বছর বয়সী ধনকুবের লেসলি ‘লেস’ ওয়েক্সনার। এফবিআই-এর একটি নথিতে তাকে এপস্টেইনের ‘সহ-ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।
তালিকায় থাকা দ্বিতীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বহুজাতিক লজিস্টিকস কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রধান নির্বাহী সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম। প্রকাশিত একটি ই-মেইল থেকে তার সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে, যা এই মামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নির্দেশ করে।
তালিকায় থাকা অন্য চারজন হলেন ইতালীয় সাবেক সংসদ সদস্য নিকোলা কাপুতো, এবং আরও তিনজন ব্যক্তি— সালভাতোরে নুয়ারা, জুরাব মিকেলাদজে ও লিওনিক লিওনভ। তবে শেষের এই চারজনের পরিচয় বা এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি, যা আরও তদন্তের দাবি রাখে।
রো খান্নার মন্তব্য ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
রো খান্না তার বক্তব্যে বলেন, "আমরা যদি মাত্র দুই ঘণ্টা নথি ঘেঁটে ছয়জনের নাম বের করতে পারি, তবে কল্পনা করুন ৩০ লাখ পৃষ্ঠার এই নথিতে আরও কত মানুষের নাম এভাবে গোপন রাখা হয়েছে।" এই মন্তব্য এপস্টেইন মামলার গভীরতা এবং সম্ভাব্য আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।
উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে বিচার চলাকালীন আত্মহত্যা করেন। তার বিরুদ্ধে প্রভাবশালীদের জন্য নারী ও কিশোরী পাচারের এক বিশাল নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগ ছিল, যা আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই নতুন প্রকাশনাগুলো মামলাটির জটিলতা এবং উচ্চপর্যায়ের কভার-আপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
