হাঙ্গেরির নতুন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর গ্রেফতারের ইঙ্গিত দিলেন
হাঙ্গেরির নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুদাপেস্ট সফরে গেলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
পেতের মাগিয়ার বলেন, ‘যদি কোনো দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য হয় এবং কোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন, তাহলে তাকে অবশ্যই হেফাজতে নিতে হবে।’ রয়টার্সের অনুবাদ অনুযায়ী তিনি আরও জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে হাঙ্গেরিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ব্যবস্থায় পুনরায় যুক্ত করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।
পূর্ববর্তী সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান পূর্বে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তিনি ২০২৫ সালে নেতানিয়াহুকে বুদাপেস্টে স্বাগত জানানোর আগেই হাঙ্গেরিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে নিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তটি তখন আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং সাবেক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তবে উভয়ই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ইসরায়েল সরকার এই পরোয়ানাকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে।
নতুন নীতির সম্ভাব্য প্রভাব
পেতের মাগিয়ারের এই ইঙ্গিত হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি ইসরায়েল-হাঙ্গেরি সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যদি নেতানিয়াহু ভবিষ্যতে হাঙ্গেরি সফরের পরিকল্পনা করেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে হাঙ্গেরির সম্পর্কেও পরিবর্তন আনতে পারে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেতের মাগিয়ারের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্তৃত্বকে শক্তিশালী করার একটি সংকেত দিচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।



