ইসরাইলের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস’ তাদের অত্যাধুনিক ‘আয়রন ডোম’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ভারতে যৌথভাবে উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংঘাতের জেরে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার ভারতের দিকে ঝুঁকছে ইসরাইল।
তামির ক্ষেপণাস্ত্র সহ-উৎপাদন
সূত্র মারফত জানা গেছে, তামির ক্ষেপণাস্ত্র সহ-উৎপাদনের বিষয়ে ইতোমধ্যে ভারতের বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে রাফায়েল। মূলত একটি যৌথ স্থিতিস্থাপকতা চুক্তির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভারতে এই উৎপাদন লাইন চালু হলে তা রাফায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি অন্য দেশে ইন্টারসেপ্টর রপ্তানির ক্ষেত্রে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যাকআপ হিসেবে এই ভারতীয় কারখানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মেক ইন ইন্ডিয়াকে গতিশীল করবে
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেলে তা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ রূপকল্পকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে নতুন দিল্লিকে একটি নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের পথে
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জেরুজালেমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার বৈঠকে যে ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক মূলত সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা এই দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের মূল উদ্দেশ্য হলো—প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যৌথ উৎপাদন, পরবর্তী প্রজন্মের সামরিক প্রযুক্তির সহ-উন্নয়ন এবং বিশেষ করে সংঘাত বা জাতীয় নিরাপত্তার তীব্র সংকটের সময়ে জরুরি সংগ্রহ ব্যবস্থা সচল করা। এই ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অনানুষ্ঠানিক কিন্তু গভীর প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এখন একটি সুসংগঠিত, স্থিতিস্থাপক এবং পারস্পরিক দায়বদ্ধতার রূপ নিতে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বাধা অতিক্রম
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে ইসরাইলের কাছ থেকে সরাসরি অস্ত্র ক্রয়ে কোনো কোনো দেশের রাজনৈতিক আপত্তি থাকতে পারে। ভারতে এই সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে পারলে রাফায়েল সেই রাজনৈতিক বাধাগুলো সহজেই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
বিদ্যমান উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ
বর্তমানে রাফায়েল উত্তর ইসরাইলের একটি কারখানায় আয়রন ডোমের ইন্টারসেপ্টর তৈরি করে থাকে। এছাড়া গত বছর মার্কিন সংস্থা রেইথিয়নের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে যুক্তরাষ্ট্রেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে তারা। ইসরাইলের বাইরে ভারতের এই উদ্যোগ তাদের সক্ষমতা আরও বাড়াবে। উল্লেখ্য, ইসরাইলের আরেকটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘এলবিট সিস্টেমস লিমিটেড’ ইতোমধ্যে ভারতে তাদের ‘হার্মিস ৯০০’ এবং ‘হার্মিস ৪৫০’ ড্রোনের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সূত্র: এনডিটিভি।



