ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র শহরে এক চাঞ্চল্যকর বিয়ের প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। নববধূ হিসেবে যাকে বিয়ে দেওয়া হয়, তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের ‘ভাই’ পরিচয়ে উপস্থিত ছিলেন ওই নারীর প্রকৃত স্বামী।
ঘটনার বিবরণ
ঘটনাটি এপ্রিলের ২৭ তারিখের। অভিযোগকারী রতন শর্মা গোয়ালিয়রের নাকা চন্দ্রবাদানি এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে টিম লিডার হিসেবে কর্মরত। পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের কেউই বিয়ে না করায় দীর্ঘদিন ধরে উপযুক্ত পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল।
পরিবারের দাবি, তাদের প্রতিবেশী সোনু তিওয়ারি তাদের সঙ্গে মোরেনার বাসিন্দা সোনু ওরফে অজয় চৌহানের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি জানান, তার দরিদ্র পালিত বোন রাধা ওরফে দীক্ষা মুদগলের জন্য পাত্র খুঁজছেন। মেয়ের ছবি ও সাক্ষাৎ দেখে বিয়েতে রাজি হয় পরিবার।
বিয়ের আয়োজন ও প্রতারণা
২৭ এপ্রিল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় ‘ভাই’ পরিচয়ে অংশ নেন সোনু। পরে ৭ মে হিন্দু রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়েতে প্রায় সাত লাখ রুপি খরচ করে বরপক্ষ।
বিয়ের পর নববধূ শ্বশুরবাড়িতে ওঠেন। তবে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়, কারণ তিনি সবসময় মোবাইলে ব্যস্ত থাকতেন। এক রাতে রতন শর্মা তার ফোন পরীক্ষা করে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে দেখতে পান, ‘ভাই’ পরিচয়ে আসা সোনু ওরফে অজয় চৌহান আসলে ওই নারীর স্বামী।
পূর্ববর্তী বিবাহ ও অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীক্ষা ও সোনু চৌহান ২০২৪ সালে আগ্রার একটি আর্য সমাজ মন্দিরে বিয়ে করেছিলেন এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছিলেন। রতন শর্মার দাবি, পুরো চক্রটি পরিকল্পিতভাবে তার পরিবারকে প্রতারণা করে নগদ অর্থ ও লাখ লাখ রুপির গয়না হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই বিয়ের আয়োজন করে।
পুলিশি ব্যবস্থা
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিবার নববধূকে থানায় নিয়ে অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ রাধা ওরফে দীক্ষা মুদগল, সোনু ওরফে অজয় চৌহান, মায়া দেবী, শিল্পি পারমার, রাঘবেন্দ্র পারমার, সত্যেন্দ্র চৌহান ও সোনু তিওয়ারির বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
ভারতের গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, অভিযুক্ত নারীকে একটি ওয়ান-স্টপ সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সোনু চৌহানকে আটক করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে।



