ছবি: সংগৃহীত
হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট দেশটির আইনপ্রণেতাদের বেতন ও বিভিন্ন ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে
চাপে থাকা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নেওয়া এই পদক্ষেপকে প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগইয়ারের সংস্কার কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পার্লামেন্টে ভোটাভুটি
৮ জুন ১৯৯ সদস্যের জাতীয় পরিষদে উপস্থিত ১৮৯ আইনপ্রণেতাই এ–সংক্রান্ত বিলের পক্ষে ভোট দেন। ক্ষমতাসীন তিসজা পার্টি উত্থাপিত বিল অনুযায়ী, আগামী জুলাই থেকে সংসদ সদস্যদের মাসিক মূল বেতন ৪০ শতাংশ কমে কর–পূর্ব প্রায় ৩ হাজার ৬৯০ ইউরোয় নেমে আসবে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বেতন কমানোর এই সিদ্ধান্ত শুধু সংসদ সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের স্পিকার ও বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি মুঠোফোন বিলের খরচ বহন বন্ধ করা হবে এবং অফিসের ভাড়া, আবাসন ও কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত ভাতাও কমানো হবে।
দ্য বুদাপেস্ট টাইমস জানিয়েছে, ব্যয় সংকোচনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পার্লামেন্টারি দলগুলোর জন্য বরাদ্দ সহায়তা ও বাজেটও কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
বাজেটের ঘাটতি মোকাবিলার চেষ্টা
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বড় বাজেটের ঘাটতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে হাঙ্গেরির বাজেটে ৪৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ফরিন্ট (প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ইউরো) উদ্বৃত্ত থাকলেও বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮০৬ ট্রিলিয়ন ফরিন্ট, যা সরকারের পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার ৯০ দশমিক ২ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রী মাগইয়ারের দাবি, পার্লামেন্টের ব্যয় কমানোর ফলে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা চার বছরের আইনসভা মেয়াদে প্রায় এক বছরের পরিচালন ব্যয়ের সমান হবে।
সরকার দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার ও বিস্তৃত আর্থিক পুনর্গঠনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে আইনের শাসনসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে আটকে থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েক বিলিয়ন ইউরো তহবিল ছাড় করানোরও চেষ্টা চলছে।



