হাঙ্গেরিতে ইতিহাস গড়লেন পিটার মাজিয়ার, ১৬ বছর পর ক্ষমতাচ্যুত অরবান
হাঙ্গেরিতে ইতিহাস গড়লেন পিটার মাজিয়ার, ক্ষমতাচ্যুত অরবান

হাঙ্গেরির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়: পিটার মাজিয়ারের ঐতিহাসিক বিজয়

ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরিতে রাজনৈতিক পালাবদলের এক যুগান্তকারী ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ও তাঁর জাতীয়তাবাদী দল ফিদেজের ভরাডুবি হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় বিজয়ের পথে রয়েছেন পিটার মাজিয়ারের মধ্যডানপন্থী তিসজা পার্টি। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে পিটারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অরবান।

নির্বাচনী ফলাফল ও রাজনৈতিক পরিবর্তন

বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালের হিসাব অনুযায়ী, ৯৮ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে পিটারের তিসজা পার্টি ১৩৮টি আসনে জয় পেয়েছে। অরবানের ফিদেজ পেয়েছে মাত্র ৫৫টি আসন। এছাড়া কট্টর ডানপন্থী আওয়ার হোমল্যান্ড ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে। হাঙ্গেরির ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে এই ফলাফল একটি বড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনের ফলাফল আসতে শুরু করার পর গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পিটার মাজিয়ার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এইমাত্র আমাদের জয়ে অভিনন্দন জানাতে ফোন করেছিলেন।’ অন্যদিকে, অরবান তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে বলেন, এই ফলাফল ‘বেদনাদায়ক’ এবং তিনি বিরোধী দল হিসেবে দেশ ও জাতির সেবা করবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিজয় উদযাপন ও পিটারের বক্তব্য

বিজয় উদযাপন করতে রাজধানী বুদাপেস্টের দানিয়ুব নদীর তীরে পিটারের হাজারো সমর্থক জড়ো হয়েছেন। তাঁরা উল্লাসে মেতে উঠেন। বিজয়ী ভাষণে ৪৫ বছর বয়সী পিটার মাজিয়ার বলেন, ‘ভোটারেরা আজ নতুন করে ইতিহাস লিখেছেন। আজ রাতে মিথ্যাকে হারিয়ে সত্য বিজয়ী হয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, হাঙ্গেরির মানুষ নিজেরা দেশের জন্য কী করতে পারেন, সেই পথ বেছে নিয়েছেন এবং তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পিটার দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক হাঙ্গেরির ইতিহাসে এর আগে কখনোই এত বেশি ভোটার নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তিসজা পার্টির মতো এত বড় জনসমর্থন এর আগে কোনো একক দল পায়নি।’ তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকদের মতামত ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

বুদাপেস্টভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ফেয়ার পলিটিক্যাল অ্যানালাইসিসের হাঙ্গেরীয় বিশ্লেষক গারগেলি রেজনাই আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এটা হাঙ্গেরির জন্য বড় একটি পরিবর্তন। কারণ, গত ১৬ বছর ধরে পার্লামেন্টে ফিদেজের বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। এ জন্য অরবান নিজের ইচ্ছামতো দেশ শাসন করতে পেরেছেন। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যাবে।’

হাঙ্গেরির জাতীয় নির্বাচন দপ্তর জানায়, গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়ার হার ছিল ৭৭ শতাংশের বেশি। হাঙ্গেরির কমিউনিস্ট পরবর্তী যুগের ইতিহাসে যেকোনো নির্বাচনে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।

অরবানের পরাজয় শুধু হাঙ্গেরি নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউক্রেনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে:

  • ইইউর অভ্যন্তরে হাঙ্গেরির ‘প্রতিপক্ষ সুলভ’ আচরণের ইতি ঘটতে পারে।
  • ইউক্রেনের ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ পাওয়ার পথ সুগম হতে পারে, যা অরবান আটকে দিয়েছিলেন।
  • রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অরবানের প্রভাব হ্রাস পেতে পারে।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভিক্টর অরবান এই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এই রাজনৈতিক পরিবর্তন হাঙ্গেরির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।