ইরান যুদ্ধে বিরোধিতা: মার্কিন বিমানের জন্য আকাশপথ বন্ধ করল স্পেন
ইরান যুদ্ধ বিরোধী স্পেন, মার্কিন বিমানের আকাশপথ বন্ধ

ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান: মার্কিন বিমানের জন্য আকাশপথ বন্ধ করল স্পেন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করে স্পেন একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য নিজেদের আকাশপথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে এই সংঘাতের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সোমবার স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

যুদ্ধ সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে না স্পেন

স্পেনের প্রভাবশালী সংবাদপত্র এল পাইস-এ প্রথম এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোবেলস সাংবাদিকদের বলেন, "ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা আমাদের আকাশপথ বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেব না।" তিনি আরও স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, "স্পেনের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। এই যুদ্ধ গভীরভাবে অন্যায় এবং সম্পূর্ণরূপে অবৈধ।"

এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বিমানগুলো এখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার সময় স্পেনের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। জরুরি অবস্থা ছাড়া সকল ধরনের অভিযানে তাদের স্পেনকে এড়িয়ে বিকল্প পথ বেছে নিতে হবে, যা সামরিক লজিস্টিকসে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের দৃঢ় অবস্থান ও ঐতিহাসিক নীতি

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "একটি অবৈধ কাজের জবাব অন্য কোনো অবৈধ কাজ দিয়ে দেওয়া যায় না। এভাবেই মানবজাতির বড় বিপর্যয়গুলো শুরু হয়।" সানচেজ স্প্যানিশ কংগ্রেসকে জানিয়েছেন যে রোটা ও মোরোন সামরিক ঘাঁটির ব্যবহার এবং আকাশপথে জ্বালানি রিফুয়েলিংয়ের সকল আবেদন ইতিমধ্যে নাকচ করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে স্পেন কখনোই কোনো তৃতীয় দেশে সরাসরি হামলার জন্য নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি। এবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ক্ষেত্রেও সেই ঐতিহ্যবাহী নীতিতে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছে মাদ্রিদ সরকার। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ইউরোপে অবস্থানরত ৮০ হাজার মার্কিন সেনার লজিস্টিক সহায়তার জন্য বিমানগুলো ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারলেও যুদ্ধ সম্পর্কিত কোনো কার্যক্রমে তা নিষিদ্ধ থাকবে।

মার্কিন প্রতিক্রিয়া ও বাণিজ্যিক হুমকি

স্পেনের এই কঠোর অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদ্রিদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন। এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে স্পেনের অর্থমন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে বলেন, "এটি কোনো একক বা বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়। একটি একতরফা এবং আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার যে নীতি স্পেন সরকার গ্রহণ করেছে, এটি তারই স্বাভাবিক পরিণতি।"

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রোবেলস আরও উল্লেখ করেছেন যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৭০টি মার্কিন সামরিক ফ্লাইট স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহার করেছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে সেসব ফ্লাইট কেবল সামরিক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং কোনো যুদ্ধবিমান বা রিফুয়েলিং বিমান সেখানে ছিল না। ফেব্রুয়ারির শেষে দেখা গেছে, স্পেনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমানকে ইতিমধ্যে ফ্রান্স ও জার্মানিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্পেনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের একটি শক্তিশালী নজির স্থাপন করেছে। মাদ্রিদ সরকারের এই দৃঢ় পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।