বগুড়া হবে দেশের এভিয়েশন হাব: বিমানমন্ত্রী
বগুড়া হবে দেশের এভিয়েশন হাব: বিমানমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খান রিতা বলেছেন, দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর আকাশপথের যোগাযোগ সুদৃঢ় করতে বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা বগুড়া পরিদর্শনে এসেছি। উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, বগুড়াবাসী সত্যিই ভাগ্যবান। মন্ত্রণালয়ের এই বৃহৎ পরিকল্পনার যাত্রা বগুড়া দিয়েই শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া এয়ারফিল্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।

উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগানো হবে

বিমানমন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চল কৃষি, শিল্প ও পর্যটনের দিক থেকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে, বিনিয়োগ ও পর্যটন খাত সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি, বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রাজিয়া সুলতানা, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক প্রমুখ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামরিক বিমান ঘাঁটি ও পাইলট একাডেমি

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বড় উন্নয়ন প্যাকেজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রথম সামরিক বিমান ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাইলট একাডেমি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে সামরিক পাইলটদের পাশাপাশি বেসামরিক মেধাবী তরুণ-তরুণীদেরও পাইলট হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দরের জন্য প্রায় ১০ হাজার ৫০০ ফুট রানওয়ে প্রয়োজন। বর্তমানে বিদ্যমান রানওয়েকে সম্প্রসারণ করে সেই মানে উন্নীত করা হবে। ভবিষ্যতে এই বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ ও সামরিক বিমান চলাচল করবে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, রানওয়ে সম্প্রসারণে যেসব স্থাপনা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে সেগুলো অধিগ্রহণ করা হবে। এজন্য জমির মালিকদের সরকার নির্ধারিত তিনগুণ মূল্য দেওয়া হবে। তাই নতুন করে কেউ যেন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করেন।

অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামরিক সক্ষমতা

বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে বগুড়া এয়ারফিল্ড সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর জন্য বেবিচক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।