ওমানে গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার প্রবাসী চার ভাইয়ের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে চারজনের মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
মরদেহ গ্রহণ
বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের (রাঙ্গুনিয়া) সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এরপর গাড়িতে করে কফিনবন্দী মরদেহগুলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাড়িতে পৌঁছানো
আজ বুধবার ভোরে চার ভাইয়ের মরদেহ রাঙ্গুনিয়ার লালানগর এলাকার বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। মরদেহগুলো নিয়ে আসার খবরে সেখানে ভিড় জমান প্রতিবেশীসহ দূরদূরান্তের মানুষ। এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিবরণ
গত বুধবার রাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয় রাঙ্গুনিয়ার লালানগরের প্রবাসী চার ভাইয়ের মরদেহ। তাঁরা হলেন শাহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম। রয়্যাল ওমান পুলিশের ধারণা, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এগজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনক্সাইড গ্যাসে শ্বাস গ্রহণের ফলে ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের বক্তব্য
নিহতদের খালাতো ভাই এমরান হোসেন জানান, চার ভাইয়ের লাশ দাফনের জন্য পাশাপাশি কবর খোঁড়া হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টায় তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারি সহায়তা
সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকার মানুষ খুবই শোকাহত। সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ওই প্রবাসীদের পরিবারকে দাফন ও পরিবহন খরচ বাবদ কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের তথ্য
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভাইদের মধ্যে দুজনের ১৫ মে দেশে ফেরার কথা ছিল। তাই চার ভাই একটি গাড়ি নিয়ে একসঙ্গে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বের হন। এর মধ্যেই পথে গাড়ি থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
চট্টগ্রাম সমিতি, ওমানের সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী জানান, ওই দিন সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকায় ছিলেন। পরে সেখান থেকে মুলাদ্দাহর দিকে রওনা দেন। রাত আটটার পর ওই চার ভাইয়ের একজন বারকা এলাকায় থাকা তাঁদের এক স্বজনকে ভয়েস ম্যাসেজ দিয়ে জানান, তাঁরা খুবই অসুস্থ। গাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। তাঁরা যেখানে অবস্থান করছেন, সেই এলাকার লোকেশনও পাঠান। এর মধ্যেই রাতে মুলাদ্দাহ এলাকায় পার্ক করে রাখা গাড়িটির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানান দুই প্রবাসী বাংলাদেশি। এরপর পুলিশ এসে দরজা খুলে চারজনের লাশ উদ্ধার করে।



