কুড়িগ্রামে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে সতর্কসীমায় পৌঁছেছে। ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম শহরের সেতু পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার বেড়েছে। অন্যদিকে, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার কমেছে।
পূর্বাভাস ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বেড়ে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসামে আগামী তিন দিন ভারী ও পরবর্তী দুই দিন অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।
বাদাম চাষে ক্ষতির আশঙ্কা
পানি বাড়ায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তার চরে বাদাম ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় ৭২৫ হেক্টর জমিতে চীনা বাদাম চাষ হয়েছে। বেশিরভাগ ফসল উত্তোলন করা হয়েছে। সামান্য কিছু ফসল চরাঞ্চলে রয়েছে। সেগুলো তুলে নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
নদীর পানি পর্যবেক্ষণ
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্যমতে, জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, ‘দুধকুমার নদের পানি কমলেও তিস্তার পানি বাড়ছে। আগামী দুই-তিন দিন পানি বেড়ে পরে কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। এ সময়টায় তিস্তা ও ধরলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।’



