রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বন্ধ করে দেওয়ায় আইনি জটিলতা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। টানা ১১ দিন ধরে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার (২৩ জুন) ৩২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে দেখা করতে যান। ওই সময়ে স্বাস্থ্য সচিব দপ্তরে না থাকায় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরেও ব্যর্থতা
এর আগের দিন সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়েছিলেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কোনো সাড়া না পেয়ে পরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে যান। স্বাস্থ্য শিক্ষার ডিজিও ওই সময় কার্যালয়ে ছিলেন না। দুই প্রতিষ্ঠানের ডিজির পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্য সচিবের সাক্ষাৎ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন তারা। তবে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আশাবাদী বিদেশি শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সচিবালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। আদ্-দ্বীন মেডিকেলের বিদেশি শিক্ষার্থীরা বলছেন, সরকারি আদেশে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ডিগ্রির কার্যকারিতা হারানোর মুখে রয়েছেন।
ভারতীয় নিয়মে ডিগ্রি ঝুঁকিতে
যদিও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির সব শিক্ষার্থী অন্য হাসপাতালে সংযুক্তির নির্দেশ দিয়েছে, তবে ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের (ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট লাইসেন্সিয়েট) রেগুলেশন্স, ২০২১-এর ৪(ক) (২) ধারা অনুযায়ী, একই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন না করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এই বিধানের কারণে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত হলেও তাদের ডিগ্রি ভারতের স্বীকৃতি পাবে না।
আদ্-দ্বীন মেডিকেলের বিদেশি শিক্ষার্থীরা বলেন, “হাসপাতালের লাইসেন্স বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা খুবই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছি। শনিবার ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাইনি। পড়াশোনা শেষ করার পর দেশে আমরা ডাক্তারি করতে পারবো না। আমরা খুবই সিরিয়াস পরিস্থিতিতে আছি।”
শিক্ষার্থীদের দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতি
তারা আরও জানান, “আজকে আমরা স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। দুর্ভাগ্যবশত কথা বলতে পারিনি। তিনি দপ্তরে ছিলেন না। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে মহাপরিচালকের কথা বলতে পারিনি।” শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা আশা করছি, বিষয়টার সমাধান হবে। আমরা সর্বোত্তম সমাধান চাই। বিদেশ থেকে এই দেশে পড়তে এসেছি, সমস্যা নিয়ে দেশে যেতে চাই না।”
জানা গেছে, স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে দেখা করার জন্য আসেন আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ জন শিক্ষার্থী। পরে তারা সচিবকে না পেয়ে ফিরে যান। আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ৩১ জন ভারতীয় ও একজন মালদ্বীপের শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ করছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ইন্টার্ন শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে তিনশরও বেশি।



