ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডিমলা ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার, সকাল ৯টায় ১০ সেন্টিমিটার ও দুপুর ১২টায় ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। তবে বিকাল ৩টায় বিপদসীমা অতিক্রম করে পানি। পানি বেড়ে বর্তমানে বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। আর বর্তমানে পানির উচ্চতা ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্ক কেন্দ্রের গেজ পাঠক (পানি পরিমাপক) নুরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, হঠাৎ সোমবার থেকে উজানের ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে তিস্তা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে।
বন্যাকবলিত এলাকা ও ক্ষয়ক্ষতি
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান (ভারপ্রাপ্ত) জানান, সোমবার রাত থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা দিশেহারা হয়ে উঁচু জায়গায় যেতে বাধ্য হন। এতে চর, গ্রামসহ নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে প্রায় এক হাজার পরিবার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দ্রুত তাদের পুর্নবাসনের অনুরোধ জানান তিনি।
উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, জেলার ডিমলার পূর্বছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের সাত গ্রামের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এসব পরিবারের মধ্যে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছে।
এদিকে জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও শৌলমারী ইউনিয়নের শতশত পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, শাকসবজি, পুকুরের মাছ ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে ক্রমেই বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ।
ব্যারাজের জলকপাট খোলা
ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হতে থাকে। মঙ্গলবার দুপরে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও বিকাল ৩টায় এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বানভাসি মানুষের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারাজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সতর্ক রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।



