কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) দেয়াল ধসে ৮ জন ছাত্রী নিহত হয়েছে। আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
কীভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা
সকাল থেকে ক্যাম্পে ভারী বর্ষণ হচ্ছিল। বেলা দুইটার দিকে ৫ নম্বর ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকের মোচরাবাজার এলাকায় পাহাড়ের নিচে নির্মিত মহিলা হেফজখানার ওপর দেয়াল ধসে পড়ে। ওই সময় মাদ্রাসার ভেতরে ৩০ জন রোহিঙ্গা ছাত্রী পড়ছিল। হঠাৎ দেয়াল ধসে পড়লে চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা এগিয়ে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কাজে যোগ দেন। সন্ধ্যায় উদ্ধারকাজ শেষ হয়।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও এডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন নিহত চার ছাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তারা হলেন ৫ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা হাসিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩), আবদুস শুকুরের দুই মেয়ে উন্মে নেজাতুল (১৩) ও উন্মে সালমা (১২) ও মো. ইলিয়াছের মেয়ে উমাইসা বিবি (১৩)।
গুরুতর আহত অবস্থায় কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে আরও তিনজন শিশু-কিশোরীকে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন ৩ নম্বর ক্যাম্পের দিল মোহাম্মদের মেয়ে আসরা বেগম (৯), একই ক্যাম্পের এফ-১ ব্লকের নুরুল আমিনের মেয়ে বেগম জান (১৫) ও ৫ নম্বর ক্যাম্পের এ-৭ ব্লকের বশির আহমদের মেয়ে ফারেসা বিবি (১২)। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উদ্ধার তৎপরতা ও প্রতিক্রিয়া
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, 'বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৩০ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন মারা গেছে। বাকি ২২ জনের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে।'
রোহিঙ্গা নেতা ও পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাতের ভূমিধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে নারী শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি এলাকায় নির্মিত অস্থায়ী স্থাপনাগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে।



