বান্দরবানের লামা উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ভোররাতে সংঘটিত ভূমিধসে পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ধস নামে এবং দুটি বাড়ির ওপর মাটি চাপা পড়ে, যার ফলে ঘরের ভেতরে থাকা লোকজন চাপা পড়ে যান। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং লামা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
নিহতদের পরিচয়
আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন জানান, মো. ইউনূসের পরিবারের তিন সদস্য (একটি শিশুসহ) এবং মো. জুয়েলের পরিবারের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এলাকার আরও কয়েকটি পাহাড় টানা বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার ও তদন্ত
উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করছে এবং ভূমিধসের কারণ তদন্ত করছে। বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খান্দকার নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আবহাওয়া ও সতর্কতা
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দরবানে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশ ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সাতটি উপজেলায় ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় আবহাওয়া রেকর্ড অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ২১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।



