বান্দরবানে অব্যাহত বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধস ও পানির তীব্র স্রোতে আলিয়া সোলতানা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। থানচি উপজেলার তীন্দু রেমাক্রীতে বৈরী আবহাওয়ায় আটকেপড়া শতাধিক পর্যটককে মঙ্গলবার বিকালে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার করা হয়েছে।
পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা
গত রোববার থেকে টানা বর্ষণে বান্দরবান জেলার রুমা-থানচি, লামা-সূয়ালক সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে ছোটখাটো পাহাড় ধসে পড়েছে। জেলা শহরের বালাঘাটা, কালাঘাটা, ইসলামপুর, বনরুপাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান ও আশ্রয় কেন্দ্র
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল জানান, ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদী বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আটকেপড়া শতাধিক পর্যটককে উদ্ধার করে থানচি সদরে আনা হয়। পরে তাদের সড়কপথে বান্দরবান জেলা শহরে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার সাতটি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বৃদ্ধি
বান্দরবান জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সন্তোষ মণ্ডল জানান, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমলেও মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অব্যাহত বর্ষণে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা শহরের উজানীপাড়া, মধ্যমপাড়া এলাকায় নদী তীরবর্তী বহু ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।
পর্যটন স্পট বন্ধ
বৈরী আবহাওয়ায় পর্যটক ও জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন স্পট, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, থানচিতে আটকেপড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রয়েছে। নদী তীরবর্তী ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হচ্ছে।
আটকে পড়া পর্যটকের সংখ্যা
থানচি উপজেলা ট্যুরিস্ট গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্লাইমেন ত্রিপুরা জানান, নাফাকুমে ৬৯ জন এবং জিন্নাপাড়ায় তিনজন গাইডসহ ২১ জন পর্যটক আটকে পড়েছিলেন। এছাড়াও থানচির বিভিন্ন স্থানে আরও পর্যটক আটকা থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



