মালয়েশিয়ায় ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত বেসরকারি খাতে মোট ৬৮ হাজার ১৯১ জন প্রতিবন্ধী (ওরাং কুরাং উপায়া) চাকরিপ্রার্থী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার (পারকেসু) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে অটিজম, অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার, ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং রিটার্ন টু ওয়ার্ক কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরাও রয়েছেন।
সাবাহ রাজ্যের প্রতিবন্ধীদের অংশ
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এক লিখিত সংসদীয় জবাবে জানান, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩ হাজার ৬০৫ জন, অর্থাৎ প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, সাবাহ রাজ্যের প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী। তিনি বলেন, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (কেমুসা) প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নকে কেবল সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি কৌশলগত উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যা একই সঙ্গে দেশের শ্রমবাজারের চাহিদাও পূরণ করছে।
সরকারের নেওয়া উদ্যোগ
কোটা মারুদুর সংসদ সদস্য দাতুক ওয়েট্রম বাহান্দার এক প্রশ্নের জবাবে রামানান জানান, বিশেষ করে সাবাহ রাজ্যের প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ বিভাগ (জেটিএম) যোগ্য সব আবেদনকারীর জন্য, প্রতিবন্ধীসহ, অ্যাডভান্সড টেকনোলজি ট্রেনিং সেন্টার, জাপান-মালয়েশিয়া টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (জেএমটিআই) এবং প্রোটন ইনস্টিটিউট-এ প্রশিক্ষণের সুযোগ দিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৩০০ রিঙ্গিত জীবনযাপন ভাতা পান। পাশাপাশি তাদের জন্য টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে এবং বিনামূল্যে আবাসন ও খাবারের সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষতা উন্নয়ন ও সার্টিফিকেশন
মানবসম্পদ মন্ত্রী আরও জানান, দক্ষতা উন্নয়ন বিভাগ (জেপিকে) মালয়েশিয়ান স্কিলস সার্টিফিকেশন সিস্টেমের (এসপিকেএম) মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান করছে। এর আওতায় মালয়েশিয়ান স্কিলস সার্টিফিকেট (এসকেএম), মালয়েশিয়ান স্কিলস ডিপ্লোমা (ডিকেএম), অ্যাডভান্সড মালয়েশিয়ান স্কিলস ডিপ্লোমা (ডিএলকেএম) এবং মালয়েশিয়ান মডুলার স্কিলস সার্টিফিকেট (এসকেএমএম) অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া, যাদের পূর্ববর্তী কর্মঅভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা পূর্ববর্তী অর্জনের স্বীকৃতি (রিকগনিশন অব প্রায়র অ্যাচিভমেন্ট (পিপিটি) পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের দক্ষতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করতে পারেন।
কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি
কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারকেসু চাকরি মিলিয়ে দেওয়া, ক্যারিয়ার পরামর্শ, ক্যারিয়ার লঞ্চপ্যাড প্রোগ্রাম (সিএলপি) ফর ওকেইউ, প্রতিবন্ধীদের জন্য চাকরি মেলা এবং মাই ফিউচারজবস পোর্টালের মাধ্যমে নিয়োগদাতাদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যদিকে ট্যালেন্ট করপোরেশন মালয়েশিয়া পরিচালিত মাই মাহির ডট মাই প্ল্যাটফর্মে বিশেষ প্রবেশগম্যতা (অ্যাক্সেসিবিলিটি) সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রতিবন্ধীরা সহজেই ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য পেতে পারেন। এ ছাড়া হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন প্রতিবন্ধীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রোগ্রাম লাতিহান মাদানি বাস্তবায়ন করছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রামানান বলেন, সরকারের এসব উদ্যোগ ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল এনেছে। ভবিষ্যতেও নীতিগত সংস্কার, শিল্পখাতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী করা হবে।



