প্রতিবেশীর লাশ আনতে গিয়ে সিলেটে প্রাইভেট কার-ট্রাক সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু
সিলেট নগরে মারা যাওয়া এক প্রতিবেশীর লাশ আনতে গিয়ে প্রাইভেট কারে করে যাওয়ার পথে বিপরীতমুখী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন এলাকার এক বাসিন্দা। আজ রোববার সকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সোনারগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে গাড়িচালকসহ আরও চারজন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নিহত ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম, যিনি নিয়াজ নামে পরিচিত। তাঁর বয়স ৫২ বছর। তিনি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের আবুতালিপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। স্থানীয় সংবাদকর্মী ও নজরুল ইসলামের ছোট ভাই আজিজুল ইসলামের বরাতে জানা গেছে, তাঁদের প্রতিবেশী আবদুল আহাদ সিলেট নগরে তাঁর বাসায় গতকাল শনিবার রাতে মারা যান। আহাদ সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মসজিদের সাবেক ইমাম ছিলেন।
আজ সকালে ফজরের নামাজ পড়ে নজরুল ইসলামসহ একই এলাকার আরও চারজন ব্যক্তি একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে আবদুল আহাদের লাশ বাড়িতে আনতে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল ছয়টার দিকে সিলেটের সোনারগাঁও এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে দক্ষিণ সুরমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পরবর্তী অবস্থা ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
আজিজুল ইসলাম বলেন, বিনা ময়নাতদন্তে নজরুল ইসলামের লাশ আনতে তাঁরা চেষ্টা চালাচ্ছেন। নজরুল ইসলাম বিবাহিত হলেও তাঁর কোনো সন্তান নেই। আহত ব্যক্তিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক, এবং হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। এই দুর্ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া ফেলেছে, বিশেষ করে যেহেতু নজরুল ইসলাম একজন প্রতিবেশীর শেষকৃত্য সহায়তা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
দক্ষিণ সুরমা থানার পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং ট্রাক চালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
