চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে ঈদযাত্রা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ যানজট। নগরের মহরা রাস্তার মাথা থেকে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান পর্যন্ত যে পথ সাধারণ সময়ে পাড়ি দিতে সময় লাগে মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট, সেখানে মঙ্গলবার (২৭ মে) ঈদের ছুটিতে একই পথ অতিক্রম করতে যাত্রীদের সময় লেগেছে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা।
যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ
শুধু সময়ের অপচয়ই নয়, কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনে গাদাগাদি করে দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থাকতে হয়েছে যাত্রীদের। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। যানজটে আটকে থাকা শিশুদের কান্না আর যাত্রীদের ক্লান্তি পুরো সড়কজুড়ে যেন এক মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তৈরি করে।
একই অবস্থা দেখা গেছে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের মুরাদপুর থেকে রাউজানের মুন্সিরঘাটা পর্যন্ত। যেখানে সাধারণ সময়ে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট লাগে, সেখানে আজ একই পথ পাড়ি দিতে সময় লেগেছে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। এ সড়কেও যানজটের পাশাপাশি আদায় করা হয় বাড়তি ভাড়া।
এর মধ্যে সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলে। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজনসহ গ্রামের পথে ছুটে চলা মানুষকে পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে।
পশুর হাটে সৃষ্টি হয় যানজট
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মহরা রাস্তার মাথা থেকে গাড়ি ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই কুয়াইশ এলাকায় দীর্ঘ যানজটের মুখে পড়তে হয় যাত্রীদের। সড়কের দুপাশে বসানো হয়েছে অস্থায়ী পশুর হাট। কোরবানির পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ক্রেতা-বিক্রেতা, পশুবাহী ট্রাক ও দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের কারণে গাড়ি চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
কখনও কয়েক গজ এগোচ্ছে, আবার দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে যানবাহন। শুধু কুয়াইশ এলাকা পার হতেও অনেক গাড়ির সময় লেগেছে প্রায় দুই ঘণ্টা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমিত উপস্থিতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকায় এলাকায় যানজট
কুয়াইশের পর নতুন করে যানজট দেখা দেয় নোয়াপাড়া পথেরহাট ও পাহাড়তলী বাজার এলাকায়। এরপর শান্তিরহাট বাজারে বসা পশুর হাট ঘিরে আবারও থমকে যায় যান চলাচল। সড়কের উপর পশুর হাট বসানোয় পুরো এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
এভাবেই একের পর এক যানজটে আটকে পড়তে হয় যাত্রীদের। গোডাউন বাজার এলাকায়ও গুরুত্বপূর্ণ কাপ্তাই সড়কের দুই পাশে বসানো হয়েছে পশুর হাট। সেখানেও ছিল দীর্ঘ যানজট। মরিয়মনগর চৌমুহনী বাজার এলাকায় একই চিত্র দেখা যায়। রাস্তার দুপাশজুড়ে পশুর হাট, মানুষের ভিড় ও অব্যবস্থাপনার কারণে পুরো সড়কজুড়ে স্থবিরতা নেমে আসে।
বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি
যানজটের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া নিয়েও পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। মহরা থেকে চন্দ্রঘোনা পর্যন্ত সিএনজি চালিত অটোরিকশার স্বাভাবিক ভাড়া ৮০ টাকা হলেও আজ আদায় করা হয়েছে ২০০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে পাহাড়তলী চৌমুহনী পর্যন্ত ৪০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয়েছে ১০০ টাকা। ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপের সুযোগ নিচ্ছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
রাঙ্গুনিয়া মরিয়ম নগর এলাকার বাসিন্দা আবু সৈয়দ বলেন, ‘মরিয়ম নগরে সড়কের উপর পশুর হাট না বসিয়ে পাশের স্কুল মাঠে বসানো যেত। তাহলে সড়কে যানজট সৃষ্টি হতো না।’
সড়কের পাশে পশুর বাজার বসানোর কারণে সৃষ্ট যানজট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও। রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, ‘সড়কের ওপর পশুর হাট অনুমোদন দেওয়া সঠিক হয়নি। এ কারণে পুরো সড়কজুড়ে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরাও বিব্রত। মানুষের যাতায়াত ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া উচিত ছিল। এ বিষয়ে আমার কোনও মতামত নেওয়া হয়নি। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’



