রাজধানীর কালশী বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানার চেষ্টা
কালশী বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে

রাজধানীর কালশী বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বস্তিটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে আরও ১১টি ইউনিট যোগ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের তেজগাঁও কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক রাসেল শিকদার বলেন, 'সকাল ১০টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাই। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।' তিনি আরও বলেন, 'আগুনে কত ঘরবাড়ি পুড়েছে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।'

আগুনের উৎপত্তি ও ক্ষয়ক্ষতি

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিসের একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বস্তির সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কষ্টসাধ্য ছিল। আগুনে অন্তত ১৫-২০টি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে সরকারি কোনো হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি টিমও উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছে। ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।

কালশী বস্তিটি রাজধানীর একটি ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি। এখানে প্রায় ৫০০ পরিবার বসবাস করে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়রা তাদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে বস্তিগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, 'প্রতি বছরই বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না। প্রশাসনের উচিত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।'

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বস্তিগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করতে কাজ চলছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে প্রচার চালানো হবে।