ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতে কমপক্ষে ৯০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মৌসুমি বৃষ্টি আসার আগে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত গরমের সময় উত্তরাঞ্চলীয় এই রাজ্যে প্রায়ই ঝড়বৃষ্টি হয়। তবে বুধবারের এই ঝড়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ধারণার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে।
প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
রাজ্যের ত্রাণ কমিশনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানান, বুধবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৫৩ জন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮৭টি বাড়ি এবং ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতে মারা গেছে ১১৪টি গবাদিপশু। অপর এক ত্রাণ কর্মকর্তা জানান, ঝড়, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ও প্রবল বৃষ্টির কারণে এই প্রাণহানি ঘটে। অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে এবং বাড়ির দেয়াল ধসে মানুষ নিহত হয়েছেন।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে রয়েছে ভারোহি, যেখানে ধূলিঝড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফতেহপুর জেলায় বৃষ্টিজনিত ঘটনায় ৯ জন এবং বুদাউন, চানদাউলি ও শনভদ্র জেলায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৮ জনের। রাজ্যের ৫ জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঝড়ের ভয়াবহ দৃশ্য
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসে গাছ ও বিলবোর্ড উপড়ে সড়কে এবং গাড়ির ওপর পড়ে আছে। ধুলোঝড়ের কারণে অনেক এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যায়। টিনের কাঠামো আঁকড়ে ধরা এক ব্যক্তিকে শূন্যে উড়িয়ে নেওয়ার দৃশ্যও টেলিভিশনে দেখানো ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে। বেরিলিতে হওয়া এই ঘটনায় ওই ব্যক্তি আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
সরকারের তৎপরতা
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত আর্থিকসহ সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



