সব ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম বিশ্বের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ আন্তঃমহাদেশীয় কৌশলগত পারমাণবিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার ‘সারমাত’ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হবে।
সারমাতের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য
পুতিনের দাবি অনুযায়ী, নতুন এই আইসিবিএম বিশ্বের যেকোনও ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি শক্তিশালী, যা এমনকি যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পারমাণবিক ওয়ারহেড পৌঁছে দিতে সক্ষম। এটি সাবঅরবিটাল বা উপ-কক্ষপথীয় উচ্চতায় উড়তে পারে এবং যেকোনও পশ্চিমা সমগোত্রীয় ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে চার গুণ বেশি শক্তিশালী।
রুশ কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভ মঙ্গলবার এই সফল উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সারমাত সিস্টেম মোতায়েনের ফলে রাশিয়ার স্থলভিত্তিক কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনীর সক্ষমতা এবং লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার নিশ্চয়তা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
মস্কোর পারমাণবিক আধুনিকায়ন কৌশলের অন্যতম ভিত্তি হলো এই সারমাত আইসিবিএম। এটি একটি অত্যন্ত ভারী এবং তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, এটি ১০টি ভারী অথবা ১৬টি হালকা মাল্টিপল ইন্ডিপেন্ডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল বহন করতে পারে। এর পারমাণবিক পেলোড বহনের ক্ষমতা ১০ টন এবং এটি শব্দের চেয়ে ১২ গুণ বেশি গতিতে (ম্যাক-১২) ছুটতে পারে। এর সাধারণ পাল্লা ১৮ হাজার কিলোমিটার হলেও রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, বিশেষ ট্র্যাজেক্টোরি ব্যবহার করে এটি ৩৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করতে সক্ষম।
ন্যাটোর নামকরণ ও পশ্চিমা সংশয়
ন্যাটো এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম দিয়েছে ‘শয়তান-২’। পুতিনের দাবি অনুযায়ী, এটি বর্তমান বা ভবিষ্যতের যেকোনও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে পারবে। তবে পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা পুতিনের এই আধুনিকায়ন কর্মসূচিকে কিছুটা অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন এবং এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষের প্রেক্ষাপট
সোভিয়েত আমলে তৈরি প্রায় ৪০টি ‘ভোয়েভোদা’ ক্ষেপণাস্ত্রকে সরিয়ে সারমাত মোতায়েন করা হবে। উল্লেখ্য, কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির সীমাবদ্ধতা সংক্রান্ত সবশেষ চুক্তি ‘স্টার্ট’ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার পরপরই এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা ও মোতায়েনের ঘোষণা দিলো রাশিয়া। ২০১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বেশ কিছু বড় ধরনের যান্ত্রিক বিপর্যয়ের শিকার হলেও বর্তমানে এটি ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে দাবি করছে রাশিয়া।



